সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই কি মোড় বদল? ধর্মতলা সংঘর্ষের পরই বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের!

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে NEET আন্দোলনের মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না করার কথা ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার রাতেই নবান্নের তরফে এই মর্মে একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি করা হয়। তবে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই সুরক্ষার পরিধি সকলের জন্য সমান নয়। যাঁদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ফৌজদারি বা অপরাধমূলক মামলা (Criminal Case) রয়েছে, তাঁরা এই আইনি সুরক্ষার আওতা থেকে বাদ পড়বেন।

নবান্নের নির্দেশিকায় কী বলা হয়েছে?

১. NEET (UG) পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে যে সমস্ত ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষ আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আপাতত কোনও ধরনের জবরদস্তিমূলক বা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ২. তবে সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের বিরুদ্ধে পূর্বে অপরাধমূলক রেকর্ড বা মামলা নথিভুক্ত রয়েছে, তাঁরা এই ছাড় বা সুরক্ষার সুবিধা পাবেন না।

জল্পনায় সিলমোহর

উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই ধর্মতলায় NEET আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সকালে আদালত অভিযুক্তদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিলেও, বিকেলে আশ্চর্যজনকভাবে সরকার পক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের জামিনের বিরোধিতা করেননি। এর জেরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর জল্পনা। তবে কি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই অভিযুক্তদের জামিনের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া হয়নি? অবশেষে নবান্নের এই নির্দেশিকা সেই জল্পনাকেই বাস্তবায়িত করল।

রাজ্য ও জাতীয় পরিস্থিতি

শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গই নয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা সামনে আসার পর বিহার এবং অসম সরকারও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা তুলে নেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। তবে এর আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছিলেন, ধর্মতলার মিছিলে ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি ছড়ানো হয়েছিল। পুলিশের প্রাথমিক হিসেবে অন্তত ৭০ জন এমন ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যাঁরা প্রকৃত ছাত্র কিংবা সংশ্লিষ্ট সংগঠনের সদস্য নন।