‘মামা আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন!’ জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো-র মঞ্চে শিবাঙ্গী জোশীর বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর disclosures

বিনোদন জগতের গ্ল্যামার ও খ্যাতির পেছনে অনেক সময়ই লুকিয়ে থাকে এক দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক সংগ্রামের ইতিহাস। বর্তমানে নেটফ্লিক্সের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বিতর্কিত রিয়েলিটি শো ‘লক আপ ২’-এর মঞ্চে প্রতিযোগ হিসেবে অংশগ্রহণ করে দারুণ আলোচনায় রয়েছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় ও প্রথম সারির অভিনেত্রী শিবাঙ্গী জোশী। শো চলাকালীন প্রতিযোগীদের বিভিন্ন ব্যক্তিগত সিক্রেট বা গোপন তথ্য প্রকাশের রাউন্ডে শিবাঙ্গী তাঁর জীবনের এমন কিছু অন্ধকার ও মর্মান্তিক অধ্যায় সকলের সামনে তুলে ধরেন, যা শুনে শো-এর সঞ্চালক থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শক—সকলেই একেবারে স্তব্ধ হয়ে যান। অভিনেত্রী আবেগঘন কণ্ঠে জানান যে, তাঁর জীবনের এমন একটি সময় ছিল যখন তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা এতটাই শোচনীয় ও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল যে, পেটের ভাত জোগাড় করা বা রান্নার জন্য সামান্য একটু চুলার আগুন জ্বালানোর মতো অবস্থাও তাঁদের ছিল না।

শো-এর ক্যামেরার সামনে নিজের অতীতে ফিরে গিয়ে শিবাঙ্গী জানান যে, তাঁর বাবার এক আত্মীয়ের সঙ্গে একটি অংশীদারিত্বে পরিবহন ব্যবসা ছিল এবং সেই সময় সবকিছু বেশ ভালোই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই ব্যবসায় ব্যাপক আর্থিক ধস নামে এবং সেই আত্মীয় সমস্ত ভুলের দায় এবং ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্পূর্ণ বোঝা জোর করে তাঁর বাবার কাঁধে চাপিয়ে দেন। সেই বিশাল পরিমাণের ক্ষতি মেটাতে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে তাঁদের পরিবারকে পৈতৃক সমস্ত সম্পত্তি জলের দরে বিক্রি করে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পথে বসতে হয়েছিল। কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিনেত্রী ব্যাখ্যা করেন যে, সেই চরম দুঃসময়ে তাঁদের অবস্থা এতটাই করুণ হয়ে পড়েছিল যে, দয়া করে কিছু আত্মীয় তাঁদের বাড়িতে শুকনো রুটি আর মাখন পাঠিয়ে সাহায্য করতেন। কারণ তাঁদের নিজস্ব চুলা জ্বালানোর মতো ন্যূনতম সম্বলটুকুও অবশিষ্ট ছিল না।

নিজের বাবা-মায়ের দীর্ঘ লড়াই ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে শিবাঙ্গী জানান যে, সন্তানদের মুখে এক মুঠো খাবার তুলে দেওয়ার জন্য তাঁর বাবা-মা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে অবিশ্বাস্য কষ্ট সহ্য করেছেন। পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে তাঁরা বিভিন্ন ক্যান্টিনে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন, মানুষের বাড়িতে গিয়ে কাপড় সেলাই করেছেন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য অন্যের বাসনপত্র পর্যন্ত মেজেছেন। নিজের সন্তানদের ক্ষুধার্ত ও অসহায় অবস্থায় দেখার সেই চরম যন্ত্রণা তিনি বাবা-মায়ের চোখে স্পষ্ট দেখতে পেতেন। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে শিবাঙ্গী জানান যে, সমস্ত প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ তিনিই তাঁর সমগ্র পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী এবং তিনি মনেপ্রাণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, জীবনের সেই ভয়ংকর ও অভিশপ্ত দিনগুলোকে তিনি আর কখনও নিজের পরিবারে ফিরে আসতে দেবেন না।

তবে এখানেই শেষ নয়, ‘লক আপ ২’-এর মঞ্চে শিবাঙ্গী জোশী আরও একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও অন্ধকার গোপন তথ্য প্রকাশ করে পুরো ইন্ডাস্ট্রিকে নড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, তাঁর নিজের মায়ের এক সৎভাই, অর্থাৎ সম্পর্কে তাঁর এক মামা অতীতে তাঁকে একাধিকবার কুনজরে দেখেছেন এবং অত্যন্ত অশালীনভাবে স্পর্শ ও জোরপূর্বক চুম্বন করার চেষ্টা করেছিলেন। প্রিয়জনদের এই ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা তাঁর ছোটবেলাকে গভীরভাবে ক্ষতবিক্ষত করেছিল।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে অত্যন্ত কম বয়সে টেলিভিশন দুনিয়ায় পা রাখেন শিবাঙ্গী জোশী। কালার্স চ্যানেলের জনপ্রিয় শো ‘খেলতি হ্যায় জিন্দেগি আঁখ মিছোলি’ দিয়ে তাঁর অভিনয় জীবনের সূচনা হয়েছিল। তবে তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয় প্রযোজক রাজন শাহীর অত্যন্ত জনপ্রিয় ও মেগা হিট ধারাবাহিক ‘ইয়ে রিশতা কেয়া কেহলাতা হ্যায়’। এই ধারাবাহিকে নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করে তিনি ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। এরপর তাঁকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। পরবর্তীতে তিনি ‘বেইন্তেহা’, ‘বেগুসরাই’, ‘বালিকা বধূ ২’, ‘বারসাতে-মৌসম পেয়ার কা’ এবং ‘বড়ে আচে লাগাতে হ্যায় ৪’-এর মতো একাধিক নামী ও দর্শকপ্রিয় প্রজেক্টে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করে নিজের বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।