আকাশ জুড়ে রহস্যময় ধোঁয়া! ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর মহাজাগতিক বিস্ফোরণ?

মহাজাগতিক এক বিরল ও অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী হলো নিউজিল্যান্ড। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দেশটির আকাশে দেখা মিলল দুটি বিশালাকার অগ্নিগোলকের (উল্কাপিণ্ড)। তীব্র আলো ছড়ানোর পাশাপাশি বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা, যা দেখে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষ মুগ্ধ হয়েছেন, অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়েছে চরম আতঙ্ক।

স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত ১০টা ২০ মিনিট নাগাদ নিউজিল্যান্ডের উত্তর দ্বীপের (North Island) ওপর দিয়ে একটি বিশালাকার উল্কাপিণ্ড ছুটে যায়। এর ঠিক দু’দিন আগে, গত রবিবার সন্ধ্যায় দেশটির দক্ষিণ দ্বীপের (South Island) আকাশেও প্রায় একইভাবে একটি বিশালাকার অগ্নিগোলক দেখা গিয়েছিল।

কমলা গোলকের পেছনে বেগুনি লেজ, আতঙ্কে ছোটাছুটি গরুর!

রাতের অন্ধকারে আচমকা এই আলোকচ্ছটা ধরা পড়েছে বহু গাড়ির ড্যাশ ক্যাম, বাড়ির সিকিউরিটি ক্যামেরা এবং বিশেষ ‘মেটিওর ক্যামেরায়’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রত্যক্ষদর্শীরা সেই ভয়াবহ ও সুন্দর অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কমলা রঙের গোলকটির পেছনে একটি গাঢ় বেগুনি রঙের লেজ ছিল এবং তা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া নির্গত হচ্ছিল। অন্য একজন লিখেছেন, আলো ও বিকট শব্দ শুনে তিনি ভেবেছিলেন হয়তো আকাশে কোনো বিমানে আগুন ধরে গেছে!

তবে মানুষের পাশাপাশি প্রাণীদের মধ্যেও প্রবল আতঙ্ক তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকট শব্দের তীব্রতায় এলাকার পাখিগুলো ভয়ে উড়ে যায় এবং গবাদি পশুরা পাগলের মতো ছোটাছুটি করতে শুরু করে।

কানফাটা ‘সনিক বুম’! মাটির কাছাকাছি এসে ভেঙে পড়েছিল উল্কাপিণ্ড?

মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘ফায়ারবলস আওতারোয়া’ (Fireballs Aotearoa)-এর পরিচালক স্টিভ উইন-হ্যারিস জানান, তিনি নিজে এটি প্রত্যক্ষ করেছেন। শুরুতে একে তীব্র বজ্রপাত ভেবে ভুল করলেও পরে প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

স্টিভ জানান, উল্কাপিণ্ডটি বায়ুমণ্ডলে তীব্র গতিতে প্রবেশের সময় বিকট ‘সনিক বুম’ (Sonic Boom) বা শব্দের ধামাকা তৈরি করেছিল। অর্থাৎ, এটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বেশ খানিকটা গভীরে এবং মাটির অনেকটাই কাছাকাছি চলে এসেছিল।

উল্কাপিণ্ডের অবশেষ খুঁজতে মহাতৎপরতা

বিজ্ঞানীদের ধারণা, আকাশে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার পরও এই উল্কাপিণ্ডের কিছু টুকরো (Meteorite) মাটিতে আছড়ে পড়েছে। তাই ‘ফায়ারবলস আওতারোয়া’-র গবেষকরা উত্তর দ্বীপের বাসিন্দাদের সজাগ থাকার এবং মাটির ওপর উল্কাপিণ্ডের অবশেষ খুঁজতে চোখ খোলা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫০ বছরে নিউজিল্যান্ডের দুর্গম ও কম জনবহুল ভৌগোলিক গঠনের কারণে মাত্র ১০টি নিশ্চিত উল্কাপিণ্ড উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে বর্তমানে দেশজুড়ে ২০০টিরও বেশি বিশেষ মেটিওর ক্যামেরা এবং সিসিটিভি মোতায়েন থাকায় এবার এই মহাজাগতিক পাথরের অবশেষ দ্রুত খুঁজে পাওয়ার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।