নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে বিরাট মোড়! সিবিআইয়ের চার্জশিট গ্রহণ করল বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক কোর্ট!

দেশজুড়ে আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর নিট-ইউজি (NEET-UG 2026) প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গঠিত বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতে সিবিআই (CBI)-এর পেশ করা চূড়ান্ত চার্জশিট আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। বুধবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের বিশেষ বিচারক অনু গ্রোভার বালিগা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পেশ করা এই তদন্ত রিপোর্ট অন-রেকর্ড বা নথিভুক্ত করেন। গত মঙ্গলবার মোট ১৩ জন গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এই চার্জশিট দাখিল করেছিল সিবিআই। এ দিন আদালতের শুনানির সময় সিবিআই-এর আইনজীবীদের বিশেষ আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার অতিরিক্ত নথি ও প্রামাণ্য তথ্য পেশ করার জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থাকে আরও তিন দিনের সময়সীমা মঞ্জুর করেছে আদালত।

সিবিআই-এর বর্ষীয়ান পাবলিক প্রসিকিউটর ভি কে পাঠক এবং আইনজীবী অর্জুন আনন্দ আদালতকে জানান যে, চার্জশিটের সমর্থনে প্রায় ২০ হাজার পাতার সুবিশাল নথিপত্র এবং সংযোজনী (annexures) স্ক্যান করার কাজ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলছে, যা আগামী তিন দিনের মধ্যে নির্দিষ্টভাবে আদালতের কাছে জমা দেওয়া হবে। সমস্ত আইনি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখে বিচারক আগামী ৩ অগস্ট এই হাই-প্রোফাইল মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। উল্লেখ্য, গত ২৩ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই মামলার দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঐতিহাসিক ঘোষণা করেছিলেন।

মঙ্গলবার পেশ করা চার্জশিটে সিবিআই দাবি করেছে, প্রশ্নপত্র তৈরির মূল দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞদের থেকে শুরু করে সুবিধাভোগী পরীক্ষার্থী পর্যন্ত—পুরো ষড়যন্ত্রের জাল ও অপরাধের মূল শিকড় পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে তারা। সিবিআই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র কোনও সরকারি আধিকারিক বা শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তিবর্গ এই প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন। মূলত এনটিএ-র চুক্তির ভিত্তিতে রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্বে থাকা ৩ জন বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ শিক্ষকই এই কেলেঙ্কারির মূল মাথা। তাঁরাই মোটা টাকার বিনিময়ে দালাল চক্রের হাতে আগাম প্রশ্ন তুলে দিয়েছিলেন। চার্জশিটে এই ৩ শিক্ষক ছাড়াও একাধিক মিডলম্যান এবং দুটি বিখ্যাত কোচিং সেন্টারের সঙ্গে যুক্ত ২ ব্যক্তির নাম রয়েছে।

অভিযুক্তদের দোষ প্রমাণ করতে সিবিআই আদালতে পাহাড়প্রমাণ সাক্ষ্য ও নথি পেশ করেছে। এই মামলায় মোট ৩৬০ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে, ৪২২টি আইনি নথি এবং ৪৩টি মেটেরিয়াল অবজেক্ট বা ভৌত প্রমাণ হিসেবে ফরেনসিক সামগ্রী জমা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চার্জশিটভুক্ত ১৩ জন অভিযুক্তই বিচারবিভাগীয় হেফাজতে জেলের অন্ধকারে রয়েছেন। আগামী ৩ অগস্টের পরবর্তী শুনানির দিকেই এখন গোটা দেশের লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নজর রয়েছে।