ট্রাম্পের চাপে ফিফা কি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে? বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে তুমুল বিতর্ক!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব ও চাপের মুখে পড়ে কি তবে বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় মহারণ অর্থাৎ বিশ্বকাপ ফুটবলের অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো? আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামহলে ফিফার এই গোপন ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে চরম রাজনৈতিক ও ক্রীড়াভিত্তিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিফা বর্তমানে একটি অভিনব বাণিজ্যিক পরিকাঠামো নিয়ে কাজ করছে। এই কাঠামোর আওতায় বিশ্বকাপের সিংহভাগ বাণিজ্যিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখলেও, এর একটি বড় অংশ বিশ্বের ২১১টি সদস্য দেশের ফুটবল ফেডারেশন এবং বহিরাগত বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ফুটবল উন্নয়ন খাতে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি অর্থ লগ্নি করার যে বৃহত্তর রূপরেখা ফিফা তৈরি করেছে, এটি তারই একটি অংশ বলে দাবি করা হয়েছে। সদস্য দেশগুলির অনুমোদন সাপেক্ষে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের এই বাণিজ্যিকীকরণ ত্বরান্বিত করার ছক কষা হচ্ছে। তবে ফিফার এই বিতর্কিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা উয়েফা (UEFA)। সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ চলাকালীনই ফিফা প্রেসিডেন্টের এমন একতরফা সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে উয়েফা। স্পেনের লা লিগার পক্ষ থেকেও ফিফার এই বাণিজ্যিক নীতির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই তোপ দাগা হয়েছে। ফিফার অংশীদারিত্ব বিক্রির এই পরিকল্পনাকে নস্যাৎ করে উয়েফা এক কড়া বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘এটি এমন একটি লাল দাগ, যা ফুটবলের সুনির্দিষ্ট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনোভাবেই অতিক্রম করা উচিত নয়। বিষয়টিকে উয়েফা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন, ক্লাব, খেলোয়াড়, সমর্থক এবং ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে যাঁরা প্রকৃত অর্থেই চিন্তিত, তাঁদের সকলেরই বিষয়টি সমান গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবাদ করা উচিত। ফুটবলের পবিত্র আত্মা ও এর প্রশাসনিক পরিচালনব্যবস্থা কোনো বেচাকেনার পণ্য বা সম্পদ হতে পারে না। বিশেষ করে এর পেছনে আর্থিক ফায়দা কে বা কারা লুটছে, সেই বিষয়ে সম্পূর্ণ অস্বচ্ছতা রয়েছে। উয়েফার সাফ কথা, ‘আমাদের কেউই ফুটবলের স্থায়ী মালিক নই। এই খেলা বা বিশ্বকাপ ফিফার ব্যক্তিগত কোনো সম্পত্তি নয় যে তা বাজারে বিক্রি করে দেওয়া যাবে।’ মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির এই পরিকল্পনা যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ২০৩১ সালে ফিফা প্রেসিডেন্ট হিসেবে জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও তিনি এই নতুন বাণিজ্যিক সংস্থার কমিশনার হিসেবে নিজের ক্ষমতা বজায় রাখতে পারেন। এদিকে এই পুরো ঘটনার পেছনে মার্কিন যোগ নিয়ে শোরগোল আরও বেড়ে গেছে। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্পের স্বামী জ্যারেড কুশনারের ভাই জশুয়া কুশনার এই মেগা চুক্তির অংশ হিসেবে ফিফার বিশ্বকাপের শেয়ার বা অংশ কেনার জন্য প্রবল আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। আর ঠিক এই কারণেই ফিফা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণ এবং ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির অভিযোগ তুলে ক্ষোভের পারদ তুঙ্গে উঠেছে। ফুটবলের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত ফায়দা তোলার এই চেষ্টার বিরুদ্ধে এখন গোটা ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন ফুটবল মহাশক্তিগুলো একজোট হয়ে প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।