শালতোড়া বিস্ফোরণ মামলায় কড়া পদক্ষেপ! সাঁতরাগাছি থেকে কুখ্যাত বিস্ফোরক পাচারকারীকে পাকড়াও করল এনআইএ!

জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)-এর মাওবাদী ও জঙ্গি দমন শাখা এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর অভিযানে বাঁকুড়ার শালতোড়া বিস্ফোরণ মামলার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এক প্রধান বিস্ফোরক সরবরাহকারীকে সফলভাবে গ্রেফতার করেছে। ধৃত ওই অভিযুক্ত দেশ ছেড়ে অন্য রাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার ফন্দি আঁটছিল এবং ঘটনার রাতেই দক্ষিণ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সাঁতরাগাছি রেল স্টেশনের কাছে ট্রেনে ওঠার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু সুনির্দিষ্ট ও গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সতর্ক থাকা এনআইএ-এর বিশেষ অভিযানকারী দল তাকে ট্রেন ধরার আগেই ঘেরাও করে আটক করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবারই ধৃত ওই অভিযুক্তকে নির্দিষ্ট এনআইএ বিশেষ আদালতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে পেশ করা হবে বলে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্র মারফত জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, এই মামলার মূল সূত্রপাত ঘটেছিল ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট গভীর রাতে। ওই দিন রাতে বাঁকুড়া জেলার শালতোড়া থানার অন্তর্গত লাউপাহাড়ী এলাকায় একটি অত্যন্ত তীব্র ও শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে কেঁপে ওঠে গোটা অঞ্চল। ওই ভয়াবহ বিস্ফোরণের অভিঘাতে জয়দেব মণ্ডল নামের এক বাইক আরোহী ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যার ওই প্রচণ্ড বিকট শব্দে কেঁপে ওঠার পর স্থানীয় লোকজন তৎক্ষণাৎ রাস্তায় বেরিয়ে আসেন এবং বাঁকুড়া-শালতোড়া রাজ্য সড়কের একপাশে ভয়াবহ দৃশ্য দেখতে পান। তাঁরা লক্ষ্য করেন যে বিস্ফোরণের অভিঘাতে একটি বাইক সম্পূর্ণরূপে কয়েক টুকরো হয়ে রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে রয়েছে এবং রাস্তার ওপরেই রক্তাক্ত অবস্থায় ছটফট করছেন বাইকচালক। স্থানীয়দের সাহায্য নিয়ে শালতোড়া থানার পুলিশ গুরুতর জখম অবস্থায় জয়দেব মণ্ডলকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে শালতোড়া ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৫২ বছর বয়সি মৃত জয়দেব মণ্ডলের একটি পা হাঁটুর নীচ থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল, যা বিস্ফোরণের ভয়াবকতা পরিষ্কার প্রমাণ করে।
এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তভার প্রথমে স্থানীয় পুলিশের হাতে থাকলেও পরবর্তীতে ঘটনার গভীরে থাকা অপরাধ চক্রকে ভাঙতে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। তদন্তে নেমে এনআইএ প্রথমে ধনঞ্জয় ঘোড়ুই ও করিমুল খান নামের দু’জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছিল। এরপর তদন্তের পরিধি আরও বাড়িয়ে নিউ টাউন এলাকা থেকে ঝাড়খণ্ডের এক বাসিন্দাকে পাকড়াও করা হয়, যার বিরুদ্ধে কনসাইনমেন্ট হিসেবে বেআইনি ডিটোনেটর ও বিস্ফোরক এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পাচারের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। এরপর গত সপ্তাহে বীরভূমের নলহাটি এলাকায় একটি সাঁড়াশি অভিযান চালায় এনআইএ। সেই অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও ডিটোনেটর বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়। নলহাটির সেই ধৃত ব্যক্তিকে টানা জেরা করেই গোয়েন্দারা সাঁতরাগাছিতে এই বিস্ফোরক সরবরাহকারীর আত্মগোপন করার সুনির্দিষ্ট খবর পান। এরপর বুধবার গভীর রাতে সাঁতরাগাছিতে আচমকা হানা দিয়ে তাকে পাকড়াও করে এনআইএ। এই গ্রেফতারির ফলে শালতোড়া বিস্ফোরণ মামলার নেপথ্যে থাকা বৃহত্তর অপরাধ নেটওয়ার্কের সম্পূর্ণ জট খুব শীঘ্রই খুলে যাবে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।