পুজোয় মিলবে দিদার! আলিপুর থেকে শিলিগুড়ির সাফারি পার্কে পা রাখছে রাজকীয় অতিথি, খুশিতে ডগমগ পর্যটকরা!

আন্তর্জাতিক বাঘ দিবসের বিশেষ এই দিনে উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণী প্রেমী এবং পর্যটকদের জন্য এক অত্যন্ত আনন্দদায়ক ও রোমাঞ্চকর খবর সামনে এসেছে। ডুয়ার্সের মনোরম কোলে অবস্থিত শিলিগুড়ির বিখ্যাত বেঙ্গল সাফারি পার্কের রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের পরিবারে খুব শিগগিরই যুক্ত হতে চলেছে এক নতুন সদস্য। আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে একটি পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে এই সাফারি পার্কে। সমস্ত পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া যদি ঠিকঠাকভাবে এগোয়, তবে আসন্ন দুর্গোৎসব তথা পুজোর ছুটির দিনগুলিতেই পর্যটকরা এই নতুন রাজকীয় অতিথিকে সামনাসামনি দেখার এবং সেলফি তোলার দারুণ সুযোগ পাবেন। রাজ্য বন দফতর এবং পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে এই বিশেষ প্রাণী বিনিময় কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং বাঘেদের জিনগত বৈচিত্র্য বা জিন পুল অক্ষুণ্ণ রাখা। বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের মতামত অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট ও বদ্ধ পরিবেশে দীর্ঘদিন ধরে একই বংশানুক্রমের বাঘদের মধ্যে প্রজনন ঘটলে তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পায় এবং বিভিন্ন জটিল জিনগত সমস্যা তৈরি হতে পারে। সেই সুদূরপ্রসারী ঝুঁকি এড়াতেই এই সুচিন্তিত প্রাণী বিনিময় কর্মসূচি রূপায়ন করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যেই আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে সেই স্ত্রী রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে বেঙ্গল সাফারি পার্কে নিয়ে আসার জন্য সেন্ট্রাল জু অথরিটি বা কেন্দ্রীয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি ছাড়পত্র প্রদান করা হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালেও একই ধরনের উদ্যোগে ‘স্নেহাশিস’ নামের একটি রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারকে এখান থেকে আলিপুর চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছিল। তবে বর্তমানের এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত জুন মাসেই দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিকাল পার্কের সঙ্গে একটি অত্যন্ত সফল প্রাণী বিনিময় সম্পন্ন হয়েছে। চলতি মাসেই পাহাড়ি আবহাওয়া থেকে বেঙ্গল সাফারি পার্কে আনা হয়েছে নতুন এক সঙ্গিনীকে, যা সাইবেরিয়ান রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত। ঠিক এই একই ধারায় এবার দ্বিতীয় দফায় আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে শিলিগুড়িতে আনা হচ্ছে আরও একটি বাঘকে। वर्तमान পরিস্থিতি অনুযায়ী বেঙ্গল সাফারি পার্কে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪টিতে, যা উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি বিশাল মাইলফলক ও সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগেও এই পার্ক থেকে প্রাণী বিনিময় কর্মসূচির অধীনে ২০২৪ সালে এক জোড়া রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার ত্রিপুরার সিপাহিজালা চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছিল এবং পরিবর্তে সেখান থেকে একজোড়া স্পেকট্যাকল লেঙুর ও একজোড়া সিংহ দম্পতিকে সাফারি পার্কে আনা হয়েছিল।

পাশাপাশি, সম্প্রতি রাজ্যের বনমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী জঙ্গলমহলের পর্যটন ও বন্যপ্রাণী আকর্ষণ বহুগুণ বাড়াতে এখান থেকে পাঁচটি বাঘ ঝাড়গ্রাম চিড়িয়াখানায় পাঠানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাঘ দিবসে এই সুসংবাদ প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে ভ্রমণপিপাসু পর্যটক এবং বন্যপ্রাণীপ্রেমী মহলে ব্যাপক উদ্দীপনা ও আনন্দের জোয়ার দেখা দিয়েছে। এই পুরো বিষয় সম্পর্কে মুখ খুলে রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে আসা নতুন বাঘটি নির্দিষ্ট দিনে পার্কে এসে পৌঁছানোর পর তাকে নিয়মমাফিক কিছুদিন নিবিড় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। নতুন জায়গার জল-হাওয়া এবং পরিবেশের সঙ্গে সে যাতে পুরোপুরিভাবে মানিয়ে নিতে পারে, সেই কারণেই এই বিশেষ ব্যবস্থা। এরপর নির্দিষ্ট সময় পেরোলে তাকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত উপায়ে পর্যটকদের দেখার জন্য সাফারি এনক্লোজারে উন্মুক্ত করা হবে। বেঙ্গল সাফারিতে বসবাসকারী বর্তমান বাঘেদের শরীরে জিনগত বৈচিত্র্য ও স্বাস্থ্য সুনিশ্চিত করতেই সরকারের এই ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।