দিল্লিতে আন্দোলনকারীদের ওপর পেলেট গান! সরকারি রেকর্ডে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস হতেই উত্তাল সংসদ!

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসকাণ্ড এবং কেন্দ্রীয় নানা দুর্নীতির প্রতিবাদে সম্প্রতি রাজধানী দিল্লিতে আয়োজিত ছাত্র-যুবদের বিক্ষোভ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ চরমে উঠল। গত ২০ জুলাই আয়োজিত সংসদ মার্চ কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীদের দমাতে দিল্লি পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনীর দমনপীড়ন নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই জল্পনা চলছিল। কেন্দ্র সরকার বারবার পেলেট বা ছররা গুলি ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করলেও, এবার খোদ সরকারি নথিতেই পেলেট গান ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসে গেল। আর এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসতেই মঙ্গলবার সংসদ ভবনের অন্দরে এবং বাইরে প্রবল হাঙ্গামা শুরু হয়, যা মোদী সরকারের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত এবং সরকারি রেকর্ড অনুযায়ী, গত ২২ জুলাই নয়াদিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট পুলিশ স্টেশনে একটি অফিশিয়াল জেনারেল ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়। র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স বা আরএএফ (RAF)-এর এক ডেপুটি কমান্ডান্টের দেওয়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে এই জিডিটি করা হয়। দুপুর দেড়টা নাগাদ দায়ের হওয়া ওই জেনারেল ডায়েরিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, ২০ জুলাই সংসদ চলো অভিযানের সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে নীল ইউনিফর্মধারী আরএএফ বাহিনী মোতায়েন ছিল। দিল্লি পুলিশের এক ডেপুটি কমিশনারের সঙ্গে যন্তর মন্তর এলাকার জোন-১-এ দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মরিয়া হয়ে ওঠে।
ওই সরকারি নথিতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে জানানো হয়েছে যে, ঘটনার দিন বিক্ষুব্ধ জনতাকে হটাতে প্রাণঘাতী নয় এমন মোট ৫৫টি শেল ফাটানো হয়েছিল। যার মধ্যে ১৫টি ইলেকট্রিক্যাল শেল, ৫টি কাঁদানে গ্যাসের শেল এবং সবচেয়ে বিতর্কিতভাবে ২ রাউন্ড ‘প্লাস্টিক পেলেট’ বা ছররা গুলি ছোড়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, এর আগে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সংসদে একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে পেলেট গান ব্যবহারের চাক্ষুষ প্রমাণ পেশ করেছিলেন। তিনি একটি আহত যুবকের ছবি ও পেলেট গুলির অংশবিশেষ তুলে ধরে প্রশ্ন করেছিলেন যে, ভারতের পতাকা হাতে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অপরাধে যুবকদের ওপর কেন ছররা গুলি চালানো হলো? সরকারের তরফে বারবার অস্বীকার করা হলেও সরকারি ডায়েরিতে এই পেলেট ব্যবহারের সিলমোহর পড়ায় বিরোধীরা আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।
এদিন এই ইস্যুকে সামনে রেখে কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, দেশের ভবিষ্যৎ সৃষ্টিকারী যুবসমাজ ও ছাত্রছাত্রীদের ওপর পেলেট গান এবং মারণ অস্ত্র ব্যবহারের মতো বর্বরোচিত পদক্ষেপ নেওয়ার কী প্রয়োজন ছিল? তারা কি কোনো ভিনদেশি জঙ্গি ছিল যে তাদের দমাতে এই ধরনের নির্মম পদ্ধতি নিতে হলো? গোটা দেশ আজ সরকারের কাছে জবাব চাইছে দাবি করে প্রিয়াঙ্কা সোচ্চারে প্রশ্ন তোলেন যে, ঠিক কার নির্দেশে এবং কোন উচ্চপদস্থ কর্তার আদেশে আন্দোলনকারীদের ওপর এই পেলেট গান চালানো হয়েছিল? এর দায় কি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নেবেন? প্রশ্নফাঁসকাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি অত্যাচারের মামলা চলার পাশাপাশি সংসদের অন্দরেও এই পেলেট গান বিতর্ক এখন এক নম্বর রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।