PoK-তে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে গণহত্যা পাক বাহিনীর? নিরীহ আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবৃষ্টি

পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) সাধারণ মানুষের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার লড়াই দিন দিন আরও রক্তক্ষয়ী রূপ নিচ্ছে। রাওয়ালকোটের চরম সহিংসতার পর এবার মিরপুরেও পাকিস্তানি রেঞ্জারদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে নিহত হলেন অন্তত ৫ জন আন্দোলনকারী। মঙ্গলবার ও সোমবার— এই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাক নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে। একইসঙ্গে গুরুতর জখম হয়েছেন ৭০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারী।
মিরপুরে কী ঘটেছিল?
স্থানীয় সূত্রে খবর, ‘জয়েন্ট আওমি অ্যাকশন কমিটি’ (JAAC)-র ডাকে মুজফফরাবাদের দিকে ‘লং মার্চ’-এর প্রস্তুতির জন্য প্রায় ৪০-৫০ জন আন্দোলনকারী মোটরবাইকে চেপে মঙ্গলবার রাওয়ালকোটের দিকে রওনা হন।
বিক্ষোভকারীরা মিরপুর বাজারে পৌঁছামাত্রই পাক রেঞ্জার ও ফ্রন্টিয়ার কনস্টাবুলারি ফোর্সের (FC) জওয়ানরা তাঁদের ঘিরে ফেলে:
বিনা প্ররোচনায় গুলি: কোনো পূর্বসতর্কতা ছাড়াই রেঞ্জাররা সরাসরি আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে।
ঘটনাস্থলেই মৃত্যু: প্রাণ বাঁচাতে বিক্ষোভকারীরা বাইক ফেলে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই ৩ জনের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় ফের গুলি চললে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়।
হাসপাতালে পরিজনদের ওপর হামলা: > নিহতদের দেহ উদ্ধার করে মিরপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি পরিবারের লোকেরা জোরপূর্বক ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে তাঁদের ওপরও রেঞ্জাররা গুলি চালায় বলে অভিযোগ।
রাওয়ালকোটে সেনার তাণ্ডব ও রক্তগঙ্গা
এর আগে সোমবার PoK-এর রাওয়ালকোটে পাক সেনা ও স্থানীয় পুলিশের যৌথ হামলায় এক লহমায় ২০ জন আন্দোলনকারী নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি মারাত্মকভাবে আহত হন। ঘটনার ভয়াবহতা দেখে পুরো PoK জুড়েই এখন থমথমে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কেন জ্বলছে পাক অধিকৃত কাশ্মীর? (মূল দাবি)
গত জুন মাস থেকেই PoK-এর বিভিন্ন অঞ্চলে পাকিস্তানি প্রশাসনের শোষণের বিরুদ্ধে বিশাল আন্দোলন গড়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীদের প্রধান দাবিগুলি হলো:
স্বায়ত্তশাসন ও প্রতিনিধিত্ব: পাক অধিকৃত কাশ্মীর বিধানসভায় ১২টি সংরক্ষিত আসন রদ করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সরাসরি প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো।
মূল্যবৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ মাশুল: লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং বিদ্যুৎ মাশুল এক ধাক্কায় কমানো।
রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি: গ্রেফতার হওয়া JAAC-র শীর্ষ নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া।
প্রশাসনের চরম অবহেলা ও বলপ্রয়োগের কারণে জুন মাস থেকে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে এ পর্যন্ত পুলিশ, রেঞ্জার ও আন্দোলনকারী মিলিয়ে অন্তত ৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার বদলে পাক সেনার এই অনমনীয় ও হিংসাত্মক মনোভাব আন্তর্জাতিক মহলেও বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।