“রাজনীতিতে ৩৬০ ডিগ্রি ইউ-টার্ন!”-TMC ছেড়ে NDAএ-র বৈঠকে যোগ দিয়ে কী বললেন সায়নী?

সময়ের সঙ্গে রাজনীতি যে কতটা দ্রুত মোড় নিতে পারে, তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হয়ে উঠলেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। একসময় যিনি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত অনুগত ও কট্টর অনুগামী, সেই সায়নী ঘোষই এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে NCPI-তে (Nationalist Citizens Party of India) যোগ দেওয়ার পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো এনডিএ (NDA) সংসদীয় দলের বৈঠকে যোগ দিলেন তিনি।
সংসদ ভবন চত্বরের লাইব্রেরি বিল্ডিংয়ে আয়োজিত এই ‘মঙ্গল মিলন’ বৈঠকে সায়নী ছাড়াও কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, জুন মালিয়াদের মতো বিদ্রোহী সাংসদদের উপস্থিতি জাতীয় রাজনীতির পারদ এক ধাক্কায় বাড়িয়ে দিয়েছে।
এনডিএ বৈঠক শেষে আপ্লুত সায়নী
বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সায়নী ঘোষ প্রকাশ্যেই মোদী সরকারের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এতদিন যিনি কেন্দ্রের নীতির বিরুদ্ধে গান-কবিতায় সুর চড়াতেন, সেই সায়নীর গলায় শোনা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন সুর।
সায়নী ঘোষের প্রতিক্রিয়া: > “আমি এনডিএ বৈঠকে উপস্থিত ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকটি অত্যন্ত তথ্যবহুল ছিল। এখান থেকে প্রচুর জ্ঞানার্জন করা সম্ভব হয়েছে এবং অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। সভায় আমাদের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করায় আমরা আপ্লুত।”
তিনি আরও জানান, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) এবং ‘ব্লু ইকোনমি’ নিয়ে আয়োজিত প্রেজেন্টেশন ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রথমবার নির্বাচিত সাংসদ হিসেবে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে সাহায্য করেছে।
সম্পূর্ণ ইউ-টার্ন: বিরোধিতা থেকে সমর্থক
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে যাদবপুর কেন্দ্র থেকে জয়ী হওয়ার পর রাজপথ থেকে সংসদ— সর্বত্রই মোদী সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন সায়নী। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর লক্ষ্যবস্তু বদলে গেছে। এখন আর কেন্দ্র নয়, বরং বিরোধী দলগুলিই তাঁর সমালোচনার মুখে।
রাজনৈতিক রূপান্তর:
তৃণমূলের কট্টর মোদী-বিরোধী মুখ ➔ NCPI-তে যোগ ➔ NDA বৈঠকে উপস্থিতি ও মোদী-বন্দনা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল শিবির ছেড়ে আসার পর সায়নী ঘোষ এখন জাতীয় রাজনীতিতে নিজেকে একজন মোদীপন্থী ও এনডিএ-ঘনিষ্ঠ নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রশ্নপত্র ফাঁস বিরোধী বিলেও প্রকাশ্যে মোদী সরকারের পদক্ষেপের পক্ষে সায় দিয়েছেন তিনি।