হিমাচলে প্রকৃতির তাণ্ডব! প্রবল বৃষ্টি ও ভূমিধসে চম্বায় ব্যাপক ধ্বংসলীলা, চাপা পড়ল এক ডজনেরও বেশি গাড়ি!

হিমাচল প্রদেশের চম্বা জেলায় সোমবার রাতে নামা প্রবল বর্ষণে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও বিপর্যয় ঘটেছে। টানা ভারী বৃষ্টির জেরে জেলার একাধিক এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধস এবং নর্দমা বা নালা উপচে পড়ার কারণে স্বাভাবিক জনজীবন সম্পূর্ণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছিল যে, বেশ কয়েকটি আবাসিক বাড়ির ভেতরে পাহাড়ি ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ে। এই আকস্মিক দুর্যোগে ১২টিরও বেশি যানবাহন মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় এবং আতঙ্কে সাধারণ মানুষ নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে প্রতিবেশীদের বাড়িতে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উদয়পুর, ঘোলাটি, নবোদয় মার্গ এবং ভারিয়াদ এলাকায় বৃষ্টির তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি ছিল। একটানা বর্ষণের ফলে বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড়ে বিপজ্জনক ফাটল ধরে এবং বিপুল পরিমাণ পাথর ও জঞ্জাল রাস্তাঘাট ও আবাসিক এলাকায় এসে আছড়ে পড়ে। এর জেরে গাড়ি, মালবাহী ট্রাক, বাইক এবং স্কুটারসহ প্রায় ১২টি যানবাহন ধ্বংসাবশেষের তলায় সম্পূর্ণ চাপা পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, প্রবল বৃষ্টির জেরে ভারমৌর-পাঠানকোট জাতীয় মহাসড়কের ওপর অবস্থিত তাডোলি নালাটিও মারাত্মকভাবে উপচে পড়ে। নালা দিয়ে বয়ে চলা জলের প্রবল স্রোত পাহাড় থেকে নেমে আসা বড় বড় পাথর ও ভারী ধ্বংসাবশেষ ভাসিয়ে নিয়ে এসে একটি দোকানকে সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেয়। জল ও আবর্জনা ঢুকে পড়ায় আশেপাশের বেশ কয়েকটি বাড়িও দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাশাপাশি, সুলতানপুরের নালাটিও প্রবল বেগে উত্তাল হয়ে ওঠে, যার তোড়ে বেশ কয়েকটি দু-চাকার যান ভেসে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে, ভারিয়াদ গ্রামে হঠাৎ করেই জলের প্রবাহের দিক পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ায় পাহাড়ি আবর্জনা ও কাদা সরাসরি আবাসিক এলাকায় ঢুকে পড়ে। এর ফলে গোটা গ্রামে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচাতে তাড়াহুড়ো করে নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে এবং পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বাড়িঘর কাদা ও ধ্বংসাবশেষে ভরে যাওয়ায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ জরিপ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করার কাজ শুরু করেছে। চলমান বৃষ্টির পূর্বাভাস মাথায় রেখে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নদী, খাল এবং ভূমিধস-প্রবণ এলাকা থেকে কঠোরভাবে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং আবহাওয়া দপ্তরের সমস্ত নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।