“পশ্চিমবঙ্গে ২০টা বেইমান একসঙ্গে জন্মেছে!” দিল্লি থেকে এনসিপিআই ও দলত্যাগীদের তোপ কল্যাণের

২০ জন তৃণমূলত্যাগী সাংসদের এনসিপিআই (NCPI)-এ যোগদান এবং তাঁদের পদ্মশিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এক সারিতে বসা নিয়ে এই মুহূর্তে দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দ তুঙ্গে উত্তেজনার পারদ! নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, রাজনাথ সিং ও নিতিন গডকড়ির ঠিক পেছনেই একই সারিতে বসে দেখা গেল কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে; আর তার ঠিক পেছনের সারিতে শতাব্দী রায় ও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়! কেন্দ্রীয় শাসক শিবিরের এই ‘গ্র্যান্ড ওয়েলকাম’-এর পরেই দিল্লি থেকে একযোগে সুর চড়ালেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

তবে শুধু আক্রমণই নয়, দিল্লি সরগরম হওয়ার মাঝেই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করলেন তিনি— “অভিষেক কাল মেসেজ করেছিল!” ### 📌 দলবদলুদের ‘বেইমান’ তোপ ও কল্যাণ-বিস্ফোরণ:

  • কড়া ভাষায় আক্রমণ: কাকলি ঘোষ দস্তিদারদের এনসিপিআই-এ যাওয়া নিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া ভাষায় বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে এতগুলো গদ্দার কখনো একসঙ্গে জন্মায়নি। ২০টা বেইমান একসঙ্গে জন্মে গেছে! পশ্চিমবঙ্গে এনসিপিআই-এর ২০টা ভোটও নেই। এরা মিটিংয়ে গেল না কোথায় গেল, সময় কাটানোর জন্য— তাতে কী যায় আসে?”

  • সংসদের আসন নিয়ে ক্ষোভ: লোকসভার আসন বিন্যাস নিয়ে সুর চড়িয়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “আমার সিট ৫ নম্বর রো-তে করে দিয়েছে, আর ওদের এগিয়ে দিয়েছে! তার মানে স্পিকার এদের আলাদাভাবে মেনেই নিয়েছে।”

  • রাজ্যের পরিস্থিতি ও বিচারব্যবস্থা: সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি আরও বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে কেউ সুরক্ষিত নয়, গণতন্ত্র নেই। বিচারব্যবস্থায় বিশ্বাস আছে, তবে সেটাও যে সম্পূর্ণভাবে কাজ করছে— তেমনটা নয়।”

কাকলি-শতাব্দী-রচানাদের পদ্ম-ঘেঁষা অবস্থান ও সংসদের পুনর্বিন্যাস— এই জোড়া ফলায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন ঝড়!

🔍 নেপথ্যের কথা:

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব যেমন কুণাল ঘোষ ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা যখন দিল্লিতে দাঁড়িয়ে লাগাতার আক্রমণ চালাচ্ছেন, ঠিক তখনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মেসেজের কথা স্বীকার করে কল্যাণবাবু ইঙ্গিত দিলেন যে দলের অভ্যন্তরীণ কৌশল তৈরি রয়েছে। এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে প্রাক্তন তৃণমূলীদের এই আসন বণ্টন এবং মোদি-শাহদের সঙ্গে তাঁদের নৈকট্য আগামী দিনে বঙ্গ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার!