রেলের বেডরোলে দেওয়া দ্বিতীয় চাদরটি কি অতিরিক্ত? আসল কারণ জানলে চমকে যাবেন!

হাওড়া-দিল্লি রাজধানী হোক কিংবা কলকাতা-মুম্বাই মেল—এসি ফার্স্ট, সেকেন্ড কিংবা থার্ড—যে কোচেই আপনি সফর করুন না কেন, বেডরোল খুললেই দেখা মেলে ১টা বালিশ, ১টা তোয়ালে এবং ২টো চাদরের। রাতে ঘুমানোর সময় আমরা সাধারণত একটা চাদর গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি এবং বাকি চাদরটা ব্যাগের পাশে বা সিটেই পড়ে থাকে। অনেকেই মনে করেন রেল বুঝি ভুল করে অতিরিক্ত একটা চাদর দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এর আসল সত্যিটা জানলে আপনিও ভারতীয় রেলের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা দেখে অবাক হবেন। রেলের দপ্তরে “এক্সট্রা” বা অতিরিক্ত বলে কিছু হয় না, ওই দ্বিতীয় চাদরটি আসলে আপনার সুরক্ষার কথা মাথায় রেখেই দেওয়া হয়।

রেলের অফিসিয়াল গাইডলাইন ও নিয়ম অনুযায়ী, এসি কোচের প্রতিটি বেডরোলে দুটি চাদর দেওয়ার মূল কারণ হলো ‘সেফটি কিট’ হিসেবে এর ব্যবহার। মাঝরাতে যদি কোনো কারণে ট্রেনে আগুন লাগে বা কোচে মারাত্মক ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, তবে এই অতিরিক্ত চাদরটি জলে ভিজিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখা অত্যন্ত কার্যকর। এতে বিষাক্ত ধোঁয়া ফুসফুসে প্রবেশ করতে পারে না এবং প্রাণহানির ঝুঁকি কমে। শুধু তাই নয়, ট্রেনে কোনো যাত্রী হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে বা ইমার্জেন্সিতে স্ট্রেচারের প্রয়োজন হলে, এই চাদর দিয়েই রোগীকে বহন করা হয়। রেলের টিটিই (TTE) এবং অ্যাটেন্ডেন্টদের বিশেষ ট্রেনিংয়েই শিখিয়ে দেওয়া হয় যে, বেডরোলের দ্বিতীয় চাদরটি কেবল শীতনিবারক নয়, এটি একটি আপৎকালীন নিরাপত্তা সরঞ্জাম (Emergency Safety Tool)।

হাইজেন বা পরিচ্ছন্নতার কথা মাথায় রেখেই রেল এই দ্বৈত চাদরের ব্যবস্থা করেছে। আপনি যে বার্থে শুচ্ছেন, তা আপনার আগে হয়তো আরও দশজন যাত্রী ব্যবহার করেছেন, ফলে সরাসরি বার্থে শোয়া মানেই জীবাণুর ঝুঁকি। এই কারণেই রেল চায় আপনি প্রথম চাদরটি ভালো করে বার্থের ওপর পেতে নিন (Bed Sheet), আর দ্বিতীয় চাদরটি গায়ে দিন (Blanket)। এর ফলে আপনার শরীর এবং বার্থের মাঝে একটি স্বাস্থ্যকর ব্যারিয়ার তৈরি হয়, যা ধুলো, ঘাম ও জীবাণু থেকে আপনাকে সুরক্ষিত রাখে। এছাড়া ২০১০ সালের আগে রেল যাত্রীদের মোটা কম্বল দিত, যা ধোয়া ও শুকানোর খরচ অনেক বাড়িয়ে দিত। সেই খরচ ও ওজন কমাতে এবং সহজে কাচার সুবিধার্থেই রেল একটা মোটা কম্বলের বদলে দুটো পাতলা চাদর দেওয়ার মাস্টারপ্ল্যান নেয়, যা ৪০% পর্যন্ত খরচ বাঁচিয়েছে। তাই পরের বার ট্রেনে চড়ে দুটো চাদর পেলে আর একে ‘এক্সট্রা’ ভাববেন না, বুঝবেন রেল আপনার নিরাপত্তা, হাইজিন ও স্বাচ্ছন্দ্য—তিনটি দিকই একসাথে নিশ্চিত করেছে।