প্রধানমন্ত্রীর কুরুচিকর কার্টুন পোস্ট! এবার শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে উত্তর ২৪ পরগনায় দায়ের হলো সুনির্দিষ্ট মামলা

প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুরুচিকর পোস্ট করার অভিযোগে এবার টলিউড অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রের বিরুদ্ধে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ থানাতেও মামলা দায়ের করা হলো। গত সোমবার বিকেলে বিজেপির পক্ষ থেকে এই মর্মে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে তাঁর অবিলম্বে গ্রেফতারির জোরালো দাবিও তোলা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই এই অভিযোগের ভিত্তিতে সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার। সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসকাণ্ড ও বিভিন্ন দুর্নীতি নিয়ে কলকাতায় বাম ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই ছাত্র মিছিলে অন্যান্যদের সঙ্গে পা মেলাতে দেখা যায় অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্রকে। অভিযোগ, মিছিলে যোগ দিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি অত্যন্ত কুরুচিকর ও আপত্তিকর কার্টুন আঁকা ছবি হাতে নিয়ে তিনি সামিল হয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, মিছিলের পর সেই বিতর্কিত ছবি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলেও পোস্ট করেন অভিনেত্রী। এরপরেই রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্কের ঝড় ওঠে এবং বিজেপির তরফ থেকে শ্রীলেখার এই আচরণের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়।

কলকাতা থেকে শুরু করে জেলায় জেলায় প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। ঘটনার দিন রাতেই বিজেপির নেত্রী কেয়া ঘোষ আনন্দপুর থানায় অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে প্রথম লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন এবং তাঁর কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন। এর রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার বিকেলে বিজেপির বনগাঁ শহর মণ্ডলের পক্ষ থেকেও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। বনগাঁর বিজেপি নেত্রী কাবেরী ঘোষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দিল্লিতে বহু ছাত্র সংগঠন আন্দোলন করেছে এবং সরকার সেই দাবিগুলি ইতিবাচকভাবে খতিয়ে দেখেছে। কিন্তু শ্রীলেখা মিত্র যেভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে অবমাননা করার উদ্দেশ্যে কুরুচিকর কার্টুন সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন, তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। পুলিশ যেন অবিলম্বে তাঁর বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

একই সুরে সুর চড়িয়ে বিজেপির বনগাঁ উত্তর মণ্ডলের সভাপতি মানস বিশ্বাস বলেন, শ্রীলেখা মিত্র সুযোগসন্ধানী ভূমিকা পালন করছেন। বামপন্থীরা যখনই কোনো কর্মসূচি নেন, তিনি প্রচারের আলোয় আসতে তাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদাধিকারীকে যেভাবে অপমান করা হয়েছে, তা দেশের সুনাগরিকরা মেনে নেবেন না।

এদিকে, এই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র এর আগে সাফাই দিয়েছিলেন যে, সেদিন তিনি চশমা সঙ্গে নেননি। তাই মিছিলের সময় তাঁর হাতে ঠিক কী ছবি ছিল, তা তিনি পরিষ্কার দেখতে পাননি। তবে তাঁর এই যুক্তিকে নেহাতই খোঁড়া অজুহাত বলে উড়িয়ে দিয়েছে রাজনৈতিক মহল। পুলিশ জানিয়েছে, আনন্দপুর থানার পাশাপাশি বনগাঁ থানায় দায়ের হওয়া মামলারও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। আইনি মারপ্যাঁচে অভিনেত্রী শেষ পর্যন্ত বিপাকে পড়েন কি না, এখন সেটাই দেখার।