ডিলিট করার দিন শেষ! হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে এল বিরাট বদল, জানুন নতুন এই জাদুকরি ফিচার সম্পর্কে

হোয়াটসঅ্যাপে উপলব্ধ বিভিন্ন আকর্ষক ফিচারের মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় এবং বহুল ব্যবহৃত ফিচারটি হলো ‘স্টেটাস’। ব্যক্তিগত ছবি, চোখধাঁধাঁনো ভিডিও কিংবা মনের মতো টেক্সট—সবকিছুই খুব সহজেই স্টেটাস হিসেবে আপলোড করা সম্ভব। তার সঙ্গে নিজের পছন্দমতো একটি সুন্দর ক্যাপশন যোগ করার সুযোগ তো রয়েছেই। তবে এতদিন এই স্টেটাস ফিচারে একটি বড় সীমাবদ্ধতা ছিল, যা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মনে অসন্তোষও কম ছিল না।

এতদিন পর্যন্ত হোয়াটসঅ্যাপে কোনো স্টেটাসে একবার ক্যাপশন দিয়ে দিলে তা পরবর্তীকালে আর এডিট বা সংশোধন করার কোনো সুযোগ ছিল না। যদি কোনো কারণে স্টেটাসের ক্যাপশনে ভুল থাকত বা তা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হতো, তাহলে পুরো স্টেটাসটি ডিলিট বা মুছে ফেলে একেবারে নতুন করে ফের আপডেট করতে হতো। কিন্তু ব্যবহারকারীদের এই দীর্ঘদিনের সমস্যা দূর করতে এবার অত্যন্ত উপযোগী এবং যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছে মেটা।

প্রযুক্তি জগতের নির্ভরযোগ্য সূত্র ‘হোয়াটসঅ্যাপ বেটা ইনফো’ (WABetainfo)-তে প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, এবার থেকে খুব সহজেই স্টেটাসের ক্যাপশন এডিট করতে পারবেন হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা। অর্থাৎ, একবার কোনো ক্যাপশন দিয়ে স্টেটাস আপডেট করার পরেও যদি সেটি পরিবর্তন করার প্রয়োজন পড়ে, তবে পুরো স্টেটাস মুছে ফেলার ঝামেলা ছাড়াই ওই একই স্টেটাসের ক্যাপশন এডিট করা সম্ভব হবে।

এই নতুন ফিচারটি কি ইতিমধ্যে চালু হয়ে গিয়েছে? সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই দুর্দান্ত ফিচারটির গ্লোবাল রোলআউট বা বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। যেহেতু বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ব্যবহারকারী এই অ্যাপটি ব্যবহার করেন, তাই সমস্ত ইউজারের কাছে এই আপডেট পৌঁছতে সামান্য কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন দ্রুত তাঁদের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপ্লিকেশনটি লেটেস্ট ভার্সনে আপডেট করে নেন।

অন্যদিকে, এই জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপের বহুচর্চিত ‘ইউজারনেম’ ফিচারটি বিশ্বব্যাপী রোলআউট করা হলেও, নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতে এখনও এটি সম্পূর্ণ চালু করা হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এই ফিচারের নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন তোলা হয়েছে। সরকারের আশঙ্কা, এই ফিচারটির অপব্যবহারের ফলে ডিজিটাল প্রতারণা ও অন্যান্য অপরাধমূলক ঘটনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। সেই কারণেই মেটার কাছে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট জবাব তলব করেছে ভারত সরকার। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো চূড়ান্ত বা আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য নিজেদের পছন্দমতো ‘ইউজারনেম রিজার্ভ’ করে রাখার দারুণ সুযোগ জিইয়ে রেখেছে হোয়াটসঅ্যাপ। অর্থাৎ, ফিচারটি সরকারি অনুমোদন পেলেই সেই সংরক্ষিত নাম নির্দিষ্ট ব্যবহারকারীর জন্য বরাদ্দ হবে।

এই সমস্ত পরিবর্তনের পাশাপাশি খুব শীঘ্রই হোয়াটসঅ্যাপে ‘কাস্টম রিয়াকশন ইমোজি’ ফিচারটিও যুক্ত হতে পারে বলে জোরালো জল্পনা চলছে। এর ফলে মেসেজে প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা আরও বেশি স্বাধীনতা ও সুবিধা পাবেন। যদিও এই মুহূর্তে এই নতুন ফিচারটি পরীক্ষামূলক বা টেস্টিং স্তরে রয়েছে।