“প্রধানমন্ত্রী কি ভগবান? রসিকতা গণতন্ত্রের অঙ্গ!”-মোদীকে নিয়ে মিম বিতর্ক নিয়ে মুখ খুললেন CJP-র সৌরভ

দেশের একাধিক শহরে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (CJP) সাম্প্রতিক প্রতিবাদ আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক তরজা এখন তুঙ্গে। প্রতিবাদ আন্দোলন চলাকালীন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতার বিরুদ্ধে কিছু আপত্তিকর পোস্টার ও কুরুচিকর মিম সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে।

এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে দিল্লি পুলিশ সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সেই সমস্ত বিতর্কিত কনটেন্ট বা পোস্টগুলি জোরকদমে সরিয়ে ফেলছে। তবে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করে এবার সরাসরি মুখ খুললেন CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাস। তাঁর সাফ এবং দ্ব্যর্থহীন কথা, “কোনটা আপত্তিকর আর কোনটা নয়, তা নির্ধারণ করার একচ্ছত্র অধিকার কার হাতে রয়েছে?”

সেন্সরশিপ ও রসিকতা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে তৈরি হওয়া কুরুচিকর পোস্টার এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন মিম প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে সৌরভ দাস এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “প্রধানমন্ত্রী কি ভগবান? দেশের সাধারণ মানুষ তো রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে একটু হালকা রসিকতা করতেই পারে, কারণ এটিই তো প্রকৃত গণতন্ত্রের অঙ্গ।” তাঁর জোরালো অভিযোগ, পুলিশ ও প্রশাসনকে অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান করলে তারা সেটাকে সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণের সেন্সরশিপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, এবং বর্তমানে ঠিক সেটাই ঘটছে। তাঁর মতে, একজনের কাছে যা অত্যন্ত আপত্তিকর বা অবমাননাকর ঠেকতে পারে, তা অন্য কারও কাছে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বা ভিন্ন মতপ্রকাশ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হতেই পারে। পুলিশের এই ধরনের স্বৈরাচারী পদক্ষেপকে তিনি সরাসরি বাকস্বাধীনতার ওপর একচ্ছত্র হস্তক্ষেপ বলে দাবি করেছেন।

সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ শুধু পোস্টার বা মিম বিতর্কই নয়, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর লাগাতার পুলিশি দমনপীড়ন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে করা এফআইআর প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগও তুলেছে CJP। সৌরভ দাসের জোরালো দাবি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা এবং ড. জিতেন্দ্র সিং সরকারের পক্ষ থেকে অতীতে স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কোনো এফআইআর বহাল রাখা হবে না এবং দ্রুত সেগুলি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। বর্তমানে সরকারের সেই লিখিত প্রতিশ্রুতির মেয়াদ ফুরিয়ে আসার মুখে দাঁড়িয়েই এই বিস্ফোরক প্রসঙ্গগুলি সামনে এনেছেন তিনি।

সৌরভ পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানান, শুধুমাত্র বিহার রাজ্যেই প্রতিবাদী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০০টি নতুন এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। দেশের বাকি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেও এই প্রতিশ্রুতি সমানভাবে কার্যকর করার জোরালো দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “সরকার যে গ্যারান্টি বা প্রতিশ্রুতি দেশের যুবসমাজকে দিয়েছিল, তাদের সেই কথা রক্ষা করা উচিত। কীভাবে অযথা সেন্সরশিপ চাপানো যাবে কিংবা ছাত্রছাত্রীদের আইনি ফাঁদে ফেলে হয়রান করা যাবে, সেই ফন্দিফিকির বাদ দিয়ে সরকারের উচিত অবিলম্বে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা।”

একইসঙ্গে সরকারের উদ্দেশে এক কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে CJP মুখপাত্র স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, যদি কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার শেষ পর্যন্ত কথা না রাখে, তবে যন্তর মন্তর থেকে সাময়িকভাবে সরে যাওয়া ছাত্রছাত্রীরা ফের একবার বৃহত্তর আন্দোলন নিয়ে রাজপথে নামতে বিন্দুমাত্র সময় নেবে না। দেশের তরুণ প্রজন্ম ও যুবসমাজ এখন অনেক বেশি সচেতন এবং ঐক্যবদ্ধ—এই জোরালো বার্তা দিয়েই প্রশাসনকে চরম চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি।