পেট্রলে ইথানল মেশানো বন্ধের দাবিতে নতুন রাজনৈতিক ঝড়! মোদী সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে ময়দানে নামল ‘ই-২০ জনতা পার্টি’

শিক্ষাব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পর এবার দেশের জ্বালানি নীতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজনৈতিক ময়দানে পা রাখল এক নতুন দল—‘ই-২০ জনতা পার্টি’। সম্প্রতি নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দেশজুড়ে ছাত্র-শিক্ষকদের তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘটনা নরেন্দ্র মোদী সরকারের গত বারো বছরের মেয়াদে এক অভূতপূর্ব নজির সৃষ্টি করেছে। আন্দোলন ও প্রতিবাদের সেই সফল পথ ধরেই এবার জ্বালানি তেলের মান এবং উপভোক্তাদের অধিকারকে সামনে রেখে আরও বড় আন্দোলনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। দেশের সাধারণ মানুষ ও গাড়িচালকদের একটি বড় অংশের দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে ই-২০ জনতা পার্টি দাবি তুলেছে যে, পেট্রলে ইথানল মেশানোর জবরদস্তিমূলক সরকারি নীতি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং সাধারণ উপভোক্তাদের শতভাগ বিশুদ্ধ, ইথানল-মুক্ত পেট্রল দিতে হবে।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ নিজেদের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্ট খুলে এই নতুন দলটি তাদের লক্ষ্য ও কর্মসূচির কথা বিস্তারিতভাবে জানিয়েছে। দলটির স্পষ্ট ঘোষণা, দেশের জ্বালানি নীতি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া উচিত। কোন নাগরিক বা উপভোক্তা কোন ধরনের তেল বা জ্বালানি কিনবেন, সে বিষয়ে তাঁর কাছে যেমন সম্পূর্ণ তথ্য ও অধিকার থাকা আবশ্যিক, তেমনই তাঁর ব্যক্তিগত পছন্দকেও সমান মর্যাদা দিতে হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী ভারত সরকারের নীতি অনুসারে পেট্রলে নির্দিষ্ট মাত্রায় ইথানল মেশানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যার ফলে বাজারে খাঁটি ও বিশুদ্ধ পেট্রল পাওয়ার কোনো সুযোগই নেই। ক্রেতারা বাধ্য হয়ে ইথানল মিশ্রিত পেট্রল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে তাঁদের নিজস্ব পছন্দ বা মতামতকে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হচ্ছে না। এই একতরফা ব্যবস্থারই তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে নবগঠিত এই রাজনৈতিক দল।
পেট্রলে ইথানল মেশানোর এই বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়, বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই এ নিয়ে পরিবেশবিদ, বিশেষজ্ঞ এবং গাড়িচালকদের মধ্যে নানা আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। এমনকি সুপ্রিম কোর্টেও এই বিষয়ে মামলা গড়িয়েছে, যেখানে কেন্দ্র জানিয়েছে যে এটি একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ। কিন্তু এর নেপথ্যে রয়েছে গাড়ির ইঞ্জিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার গুরুতর আশঙ্কা। বিশেষজ্ঞদের একাংশের জোরালো দাবি, ইথানল মিশ্রিত এই জ্বালানি নিয়মিত ব্যবহারের ফলে যানবাহনের ইঞ্জিন দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় এবং গাড়ির আয়ুষ্কাল কমে যায়। পাশাপাশি, সাধারণ গাড়িচালকদেরও একটি বিশাল অংশের দীর্ঘদিনের অভিযোগ যে, এই মিশ্রিত পেট্রল ব্যবহার করলে গাড়ির মাইলেজ বা জ্বালানি দক্ষতা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পায়, যার ফলে বাড়তি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয় সাধারণ ক্রেতাদের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নিট আন্দোলনের মতো ছাত্র ও যুবসমাজের সফল প্রতিবাদের সফলতাকে সামনে রেখে ই-২০ জনতা পার্টি যেভাবে সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করেছে, তাতে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে এটি এক নতুন মোড় নিতে পারে। সিজেপির ধাঁচে এই নতুন আন্দোলন কতটা ব্যাপক আকার ধারণ করে এবং কেন্দ্র সরকারের ওপর কতটা চাপ সৃষ্টি করতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। একদিকে গাড়ির সুরক্ষা এবং অন্যদিকে উপভোক্তাদের মৌলিক অধিকার—এই দুই দ্বিমুখী দাবিকে সামনে রেখে ই-২০ জনতা পার্টির এই আন্দোলন যে আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক পারদ চড়াতে চলেছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।