গলায় সংক্রমণ থেকে সোজা মিউজিক রিয়্যালিটি শোয়ের চ্যাম্পিয়ন! হার না মানা লড়াইয়ে ইতিহাস গড়লেন জ্যোতির্ময়ী নায়ক

গত বছর ‘ইন্ডিয়ান আইডল ১৫’-এর মঞ্চ আলোকিত করেছিল বাঙালি কন্যা মানসী ঘোষ। আর এবার দীর্ঘ নয় মাসের দীর্ঘ ও কণ্টকাকীর্ণ জার্নি শেষে ‘ইন্ডিয়ান আইডল সিজন ১৬’-এর বিজয়ীর মুকুট নিজের মাথায় পরে নিলেন ওড়িশার কৃতি কন্যা জ্যোতির্ময়ী নায়ক। অডিশনের প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে গ্র্যান্ড ফিনালে পর্যন্ত—নিজের জাদুকরী কণ্ঠ ও অনবদ্য পরিবেশনার মাধ্যমে তিনি বিচারক থেকে শুরু করে গোটা দেশের দর্শক-শ্রোতার মন জয় করে নিয়েছিলেন। তারই সুমহান পুরস্কারস্বরূপ আজ তিনি ট্রফি জয়ের পাশাপাশি ২০ লক্ষ টাকার নগদ পুরস্কারও নিজের ঝুলিতে পুরেছেন।
গ্র্যান্ড ফাইনালের এই মহাযুদ্ধে আন্দসিকা চোনকার, মনরাজ বীর সিং, মাসকামে বোস, সুহেল সুফি এবং জব্বলপুরের প্রথম রানার-আপ তানিশক শুক্লার মতো অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রতিভাবান প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে সেরার সেরা হন জ্যোতির্ময়ী। ট্রফি জয়ের পর আবেগঘন কণ্ঠে তিনি জানান যে, এই মুহূর্তটি তাঁর কাছে নিখাদ স্বপ্নপূরণের মতো। অডিশন থেকে শুরু করে এই ট্রফি জয় পর্যন্ত তাঁর সম্পূর্ণ যাত্রাটি ছিল জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো একটি অবিশ্বাস্য অভিজ্ঞতা। তিনি তাঁর পরিবার, অগণিত অনুরাগী, শোয়ের বিচারক, পুরো পরিচালনা দল এবং যাঁরা তাঁকে প্রতিনিয়ত ভোট দিয়ে জয়ী করেছেন, তাঁদের সকলের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই ট্রফি শুধু আমার একার নয়, বরং তাঁদের সবার যাঁরা প্রতিটি পদক্ষেপে আমাকে সমর্থন জুগিয়েছেন এবং আমার প্রতি অবিচল আস্থা রেখেছেন।”
নিজের এই দুর্দান্ত সাফল্যের মূলমন্ত্র ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জ্যোতির্ময়ী জানান যে, ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চ জয় করাটা তাঁর জন্য অত্যন্ত বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। শুরুর দিনগুলিতে তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবতে পারেননি যে তিনি ফাইনালিস্ট হতে পারবেন, কিন্তু তিনি কখনোই চেষ্টা থামাননি। তাঁর কথায়, “আজ আমার কঠোর পরিশ্রমের ফলেই আমি এই সোনালী সাফল্য অর্জন করেছি। তাই আমি সবাইকে শুধু এটুকুই বলব—নিজের ওপর অগাধ বিশ্বাস রাখুন, নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যান এবং ঈশ্বরের ওপর আস্থা রাখুন, আপনারা নিশ্চিতভাবেই সফল হবেন।” তিনি আরও স্মরণ করেন অডিশনের সেই কঠিন দিনের কথা, যখন গলায় মারাত্মক সংক্রমণের কারণে তিনি প্রথমটায় ঠিকমতো গান গাইতে পারেননি। তবুও বিচারকরা তাঁকে যে সুযোগ দিয়েছিলেন, তা তিনি কাজে লাগিয়েছিলেন এবং অডিশনে ‘সাইয়া সাইয়া’ গান গেয়ে বিচারকদের মুগ্ধ করেছিলেন।
উল্লেখ্য, জ্যোতির্ময়ীর এই পথচলা কখনই মসৃণ ছিল না। এর আগেও তিনি তিন-চারবার ইন্ডিয়ান আইডলে অংশ নিয়ে ব্যর্থ হয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর অদম্য জেদ তাঁকে দমে যেতে দেয়নি। ওড়িশার অত্যন্ত জনপ্রিয় প্লে-ব্যাক গায়িকা হিসেবে ২০১৯ সালে তাঁর অভিষেক ঘটেছিল। ‘ইশক আধার’ এবং ‘দেখতা হালে প্রেম হালে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ওড়িয়া সিনে জগতে তাঁর জার্নি নতুন মোড় নেয়। ওড়িশার ভুবনেশ্বরের পালাকান্ধি এলাকার নিবাসী এই প্রতিভাবান গায়িকা তাঁর ক্যারিয়ারে ইতিমধ্যে প্রায় এক হাজারের বেশি গান ও ভজন রেকর্ড করেছেন। সঙ্গীত জগতের এই বিশাল সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনেও শীঘ্রই নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে, কারণ খুব শীঘ্রই তিনি আশুতোষ সামালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছেন।