১৫ বছরের নীল-সাদা ঐতিহ্যে ইতি! শুভেন্দু সরকারের জমানায় অবশেষে বদলে গেল খাস নবান্নের রং

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বাংলার প্রতিটি কোণায় রঙের পালাবদল দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে সরকারি ভবন ও বিভিন্ন প্রকল্পের যে নীল-সাদা রঙের আধিপত্য ছিল, তা ধীরে ধীরে মুছে ফেলতে শুরু করেছে নতুন সরকার। আর এবার খাস রাজ্যের প্রশাসনিক ভবন তথা ‘নবান্ন’-এর রঙেও লেগে গেল সেই পরিবর্তনের ছোঁয়া। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলা নীল-সাদা ঐতিহ্য ভেঙে এবার নবান্নের মূল ফলকটি সম্পূর্ণ গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে, যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ও জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবারে সকালেই রাজ্যবাসীর নজরে আসে এই আমূল পরিবর্তন। বিগত ১৫ বছর ধরে নবান্নের চূড়ায় যে নীল রঙের ‘নবান্ন’ ফলকটি জ্বলজ্বল করত, তা এখন সম্পূর্ণ অতীত। তার পরিবর্তে একেবারে নতুন ও উজ্জ্বল গেরুয়া রঙে সেজে উঠেছে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফলকটি। তবে শুধু ফলক পরিবর্তনই নয়, এর রাজনৈতিক তাৎপর্যও যথেষ্ট গভীর বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কারণ, রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনা থেকে নীল-সাদা রং সরিয়ে সেখানে গেরুয়া প্রলেপ লাগানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

যদিও বর্তমান প্রশাসনিক ভবনের সম্পূর্ণ অংশ অর্থাৎ পুরো বহুতলটি গেরুয়া রঙে রাঙানো হবে কি না, সেই বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের একাংশের জোরালো অনুমান, যেভাবে একের পর এক প্রতীকী পরিবর্তন আনা হচ্ছে, তাতে আগামী দিনে খাস নবান্নের পুরো ভবনটিও নীল-সাদা থেকে সম্পূর্ণ গেরুয়া হয়ে যেতে পারে। সেই সম্ভাবনাকে একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, এর আগে গত কয়েকদিন আগেই শুভেন্দু সরকারের পক্ষ থেকে রাজ্যের স্কুলগুলির ইউনিফর্ম বা পোষাকের রং বদলের এক সুদূরপ্রসারী ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০২২ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সমস্ত সরকারি ও অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের ইউনিফর্মের রঙ জোরপূর্বক নীল-সাদা করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতার পালাবদলের পরই নতুন প্রশাসন অত্যন্ত স্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছে যে, আর কোনোভাবেই নীল-সাদা স্কুল ইউনিফর্ম রাখা হবে না। ২০২২ সালের আগে যে সমস্ত স্কুলগুলির নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক বা আলাদা রঙের ইউনিফর্ম ছিল, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে সমস্ত স্কুল সেই পুরনো এবং নিজস্ব স্বকীয় রূপেই ফিরে যাবে। শিক্ষা ক্ষেত্র থেকে শুরু করে প্রশাসনিক ভবন—সর্বত্রই এই রূপান্তরের ঝড়ে এখন উত্তাল বঙ্গ রাজনীতি।