বর্ষা নামলেই ভাসছে সেতু, চরম ভোগান্তিতে হাজার হাজার মানুষ! কুনুর নদীর স্থায়ী সেতু নিয়ে বিধানসভায় কী বললেন বিধায়ক?

বর্ষা কাল মানেই বাংলার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থার এক চেনা ও চরম দুর্দশার ছবি। ঠিক তেমনই প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষার মরশুম শুরু হতেই কুনুর নদীর ওপর তৈরি অস্থায়ী মাটির সেতু প্রবল জলের স্রোতে ভেসে গিয়েছে। আর এর ফলেই দুর্গাপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের কাঁকসার আকন্দারা থেকে জেমুয়া হয়ে দুর্গাপুর যাওয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগপথে যাতায়াতকারী হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ ও জটলার মুখে পড়তে হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এই দীর্ঘদিনের গুরুতর সমস্যার স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে প্রশাসনের তরফ থেকে নানা প্রতিশ্রুতির কথা শোনা গেলেও, বাস্তবে আজ পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়নি। আর সেই কারণেই স্থানীয় সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও দীর্ঘদিনের এই ন্যায্য দাবিটিকে এবার সরাসরি বিধানসভার ফ্লোরে তুলে ধরে জোরালো সওয়াল করেছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়।

কাঁকসার আকন্দারা থেকে জেমুয়া হয়ে দুর্গাপুর যাওয়ার এই রুটটি কেবল স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের মাধ্যম নয়, বরং বীরভূম, দুর্গাপুর-ফরিদপুর এবং কাঁকসার বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের কাছে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের লাইফলাইন। এই সংক্ষিপ্ত পথটি ব্যবহার করলে যাত্রাপথে প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তা সহজেই কমে যায়। বিশেষ করে দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়, মহকুমা হাসপাতাল এবং শহরের বিভিন্ন জরুরি সরকারি ও বেসরকারি পরিষেবাগুলিতে পৌঁছাতে মাত্র ১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু বর্ষার মরশুমে কুনুর নদীর জল বাড়লেই অস্থায়ী সেতুটি ভেঙে যায় এবং প্রায় চার মাস ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এরপর বাধ্য হয়ে প্রতিবারই সেতুর জায়গায় নতুন করে মাটি ফেলে কোনোমতে চলাচলের জোড়াতালির ব্যবস্থা করা হয়, যা পরের বছরের বর্ষার প্রথম আঘাতেই ফের ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।

এলাকার ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই স্থায়ী সমস্যার একটি স্থায়ী ও কংক্রিটের সমাধানের অপেক্ষা করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষ্মীনারায়ণ হেমব্রম ও লক্ষ্মণ অধিকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান শাসক দলের আমলে বিগত দিনে বারবার স্থায়ী সেতু নির্মাণের চটকদার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও কাজের কাজ আদতে কিছুই হয়নি। প্রতি বছর বর্ষা এলেই সেতু ভেঙে যাওয়ার দীর্ঘস্থায়ী অভিশাপের শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। তখন বাধ্য হয়ে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ঘুরপথে যাতায়াত করতে হয়, যার জেরে এলাকার ছাত্রছাত্রী, মুমূর্ষু রোগী, এবং নিত্যদিনের চাকরিজীবীরা চরম নাকাল হন। এবার স্থানীয় বিধায়ক বিধানসভায় এই জনস্বার্থের বিষয়টি জোরালোভাবে তোলায় এলাকার মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে।

জনসাধারণের এই চরম সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জোরালো দাবি জানিয়ে বিধানসভায় পুরো বিষয়টি তুলে ধরে বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এবারেও বর্ষার অবিরাম জলে কুনুর নদীর ওপর নির্মিত অস্থায়ী সেতুটি সম্পূর্ণ ভেসে গিয়েছে। এর ফলে এলাকার সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত একটি শক্তপোক্ত স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মাণ করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এই সেতু তৈরি হলে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের অন্তহীন সমস্যা চিরতরে দূর হবে এবং এই এলাকার সার্বিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নও বহুলাংশে ত্বরান্বিত হবে।” এদিকে বিধায়ক কর্তৃক বিধানসভায় এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার পর থেকেই দীর্ঘদিনের এই অবহেলিত সমস্যার অবশেষে স্থায়ী সুরাহা হবে কি না, এখন সেই আশার দিকেই দিন গুনছেন দুর্গাপুর ও কাঁকসার হাজার হাজার মানুষ।