যুদ্ধের সংজ্ঞা বদল! শত্রুকে নিমেষে গুঁড়িয়ে দিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে এল এক্কেবারে নতুন প্রযুক্তির ‘ভৈরব’ ও ‘রুদ্র’!

আজ ২৬শে জুলাই, কার্গিল যুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক বিজয়ের ২৭তম গৌরবোজ্জ্বল বার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে (Kargil Vijay Diwas)। ১৯৯৯ সালের উত্তপ্ত গ্রীষ্মকালে কার্গিলের দুর্গম ও বরফাবৃত পর্বতমালাজুড়ে ভারতীয় জওয়ানরা যে অসামান্য সাহসিকতা ও বীরত্বের নিদর্শন রেখেছিলেন, তা আজীবন স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের কৌশলগত অবস্থানও আমূল বদলে গেছে। গত মে মাসে পাহালগামে ঘটা নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার উপযুক্ত ও কঠোর জবাব দিতে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী শত্রুঘাঁটিতে ঢুকে যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ (Operation Sindoor) পরিচালনা করেছিল, তা বিশ্বকে ভারতের নতুন সামরিক শক্তির পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। কার্গিল সংঘাত এবং সাম্প্রতিক ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মধ্যবর্তী এই দীর্ঘ সময়ে ভারতীয় সেনার রণকৌশল এবং যুদ্ধপদ্ধতিতে এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন।

সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের ধরণ ও প্রজন্মগত বিবর্তনের দিক থেকে কার্গিল যুদ্ধ মূলত চতুর্থ প্রজন্মের একটি সংঘটিত রূপ ছিল, যেখানে সমগ্র পশ্চিম রণাঙ্গন জুড়ে সৈন্য মোতায়েন এবং বিভিন্ন ভারী কামানের ব্যাপক ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু ‘অপারেশন সিঁদুর’ ছিল আরও অনেক বেশি উন্নত ও আধুনিক; অত্যাধুনিক প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহারের কারণে একে ৪.৫ প্রজন্মের একটি নিখুঁত সামরিক অভিযান হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই ধারাবাহিকতায় ভারতীয় সেনাবাহিনী নিজেদের প্রতিরক্ষামূলক মানসিকতা পুরোপুরি ঝেড়ে ফেলে সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রণকৌশল গ্রহণ করেছে। সেনাবাহিনীর এই রূপান্তরের অংশ হিসেবেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে নতুন কর্মতৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

তৎকালীন সেনাপ্রধানের ঘোষণা অনুযায়ী, ভারতীয় সেনার অন্দরে এখন ‘ভৈরব’ ব্যাটালিয়ন এবং ‘রুদ্র’ ব্রিগেড অত্যন্ত সফলভাবে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বিশেষ এই ‘ভৈরব’ লাইট কমব্যাট ব্যাটালিয়নটি প্রচলিত সাধারণ পদাতিক ব্যাটালিয়নগুলোর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কারণ এতে পদাতিক বাহিনীর পাশাপাশি আর্টিলারি, বিমান প্রতিরক্ষা (এয়ার ডিফেন্স) এবং সিগন্যালস ইউনিটের অত্যন্ত দক্ষ জওয়ানরা একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেন। এটি যুদ্ধ এবং যুদ্ধ-সহায়ক সমস্ত উপাদানের মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় সাধন করতে সক্ষম। এই ব্যাটালিয়নের কাছে রয়েছে আধুনিক কামানের পাশাপাশি লোইটারিং মিউনিশন, ঘাতক ড্রোন এবং অত্যাধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। পাশাপাশি, সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী কিছু আর্টিলারি রেজিমেন্টকে আধুনিক ‘শক্তিবান’ রেজিমেন্টে রূপান্তরিত করা হচ্ছে, যেখানে ড্রোন সোয়ার্ম ও লোইটারিং মিউনিশনের অন্তর্ভুক্তি অপারেশনাল রেঞ্জ বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।

শুধু তাই নয়, ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতিটি পদাতিক ব্যাটালিয়নে এখন সুনির্দিষ্টভাবে ড্রোন প্লাটুন গঠন করা হয়েছে, যার ফলে প্রতিটি ব্যাটালিয়ন আজ ড্রোন চালনা ও আকাশপথে নজরদারিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ। মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে উড়তে সক্ষম বিশেষ ক্যাডারের এই ড্রোন চালকদের নিয়ে তৈরি হয়েছে বিশেষ ‘বাজ ব্যাটালিয়ন’। একই সঙ্গে, প্রচলিত কাঠামোর বাইরে বেরিয়ে মাঝারি আকৃতির অত্যন্ত শক্তিশালী ‘ইন্টিগ্রেটেড ব্যাটল গ্রুপ’ বা আইবিজি (IBG) গঠন করা হচ্ছে, যা ব্রিগেডের চেয়ে বড় কিন্তু ডিভিশনের চেয়ে আকারে ছোট। ইতিমধ্যেই এমন পাঁচটি আইবিজি এবং একটি শক্তিশালী ‘ফায়ার সাপোর্ট গ্রুপ’ ময়দানে নামানো হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে পদাতিক বাহিনী, আধুনিক পদাতিক যুদ্ধযান, ঘাতক ট্যাংক, ভারী আর্টিলারি এবং বিধ্বংসী আক্রমণকারী হেলিকপ্টার।