ক্ষমতায় আসতেই বড় পদক্ষেপ! রাজ্যের পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানদের আর্থিক ক্ষমতায় কড়া কাটছাঁট নতুন সরকারের!

রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এক চাঞ্চল্যকর ও যুগান্তকারী পটপরিবর্তন ঘটে গেল। ক্ষমতায় আসার পরেই গ্রামীণ স্তরে দুর্নীতি রোধ করতে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা সুনিশ্চিত করতে রাজ্যের পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানদের আর্থিক ক্ষমতার রাশ কষে দিল সরকার। বিধানসভায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত পঞ্চায়েত আইন সংশোধনী বিল পাশ হয়ে যাওয়ার ফলে এখন থেকে গ্রাম পঞ্চায়েতের তহবিল থেকে যেকোনো ধরনের টাকা খরচ বা পেমেন্ট অর্ডারের ক্ষেত্রে এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট-এর স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হলো। পাশাপাশি চেক বিতরণের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতের সেক্রেটারি ও এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট-এর যৌথ স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারের এই নতুন পদক্ষেপকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। বিরোধী শিবির একে গণতান্ত্রিক অধিকার ও ক্ষমতার কেন্দ্রচ্যুতির আক্রমণ বলে তোপ দাগলেও, শাসক দলের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে গ্রামীণ উন্নয়ন তহবিলের সঠিক ব্যবহার এবং স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির লাগাম টানতেই এই কঠোর আইনি সংস্কার অত্যন্ত জরুরি ছিল। সিপিএম সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলি এই বিলের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছে যে এর ফলে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের আসল ক্ষমতা ও মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হবে। অন্যদিকে, জাতীয় রাজনীতিতে গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা তীব্র ছাত্র বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মুখে অবশেষে এক ঐতিহাসিক মোড় এসেছে। লক্ষাধিক পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এবং লাগাতার প্রশ্নফাঁসের ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে দেশজুড়ে যে দাবানল সৃষ্টি হয়েছিল, তার জেরে অবশেষে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। গত শনিবার সকাল থেকেই রাজধানী দিল্লি থেকে শুরু করে পাটনা, ছাপরা এবং গুজরাতের সুরাট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছাত্র-যুবরা আরও একবার তীব্র ও আক্রমণাত্মক আন্দোলনে ফেটে পড়েন। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) এবং অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের লাগাতার আন্দোলন ও যন্তর মন্তর চত্বরের দীর্ঘ অবস্থান বিক্ষোভের চাপে অবশেষে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয় কেন্দ্র। শিক্ষাব্যবস্থায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ফেরানো এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে শুরু হওয়া এই গণআন্দোলনের মুখে দাঁড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রীর এই পদত্যাগ মোদী সরকারের জমানায় এক অন্যতম বড় রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লাগাতার ছাত্র অসন্তোষ ও দেশের ক্রমবর্ধমান জনরোষের জেরে সরকারের এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনের জাতীয় রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে।