কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে বড় চ্যালেঞ্জ মানুষের সৃজনশীলতা! মোদীর নতুন বার্তার অপেক্ষায় গোটা দেশ

রবিবার সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর অত্যন্ত জনপ্রিয় মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এর মাধ্যমে ফের দেশবাসীর সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনে অংশ নিতে চলেছেন। এটি এই সুপরিচিত জনমুখী বেতার অনুষ্ঠানের ১৩৬তম পর্ব হতে চলেছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আকাশবাণী এবং দূরদর্শনের সমস্ত প্রধান নেটওয়ার্কে এই অনুষ্ঠানটি একযোগে সম্প্রচার করা হবে, যার জন্য দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল উৎসাহ লক্ষ করা যাচ্ছে।
এই অনুষ্ঠানের ব্যাপক জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে বলতে গেলে, এর ঐতিহাসিক ১০০তম পর্বের প্রাক্কালে পরিচালিত একটি নিবিড় সমীক্ষায় উঠে এসেছে এক অবিশ্বাস্য তথ্য। সেই সমীক্ষা অনুযায়ী, ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানটি ইতিমধ্যেই দেশের প্রায় ১০০ কোটি শ্রোতার কাছে পৌঁছে গিয়েছে, যার অর্থ ভারতের বিপুল জনসংখ্যার বিরাট অংশ জীবনের কোনো না কোনো সময়ে এই অনুষ্ঠানটি শুনেছেন। শুধু তাই নয়, সমীক্ষায় আরও জোরালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে যে দেশের প্রায় ৯৬ শতাংশ নাগরিক ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানটির নাম ও এর প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। প্রসার ভারতীর বিশেষ উদ্যোগে আইআইএম (IIM) রোহতকের দ্বারা এই বিশদ সমীক্ষাটি পরিচালিত হয়েছিল।
গত মাসে সম্প্রচারিত ‘মন কি বাত’-এর ১৩৫তম পর্বে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একাধিক দূরদর্শী ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অত্যন্ত সার্থকভাবে তুলে ধরেছিলেন। দু’বছর আগে ঐতিহাসিক নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ক্যাম্পাস উদ্বোধনের স্মৃতিচারণা করে তিনি এই প্রাচীন প্রতিষ্ঠানের বহুমুখী প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, এই আধুনিক নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের সেই প্রাচীন ও গৌরবময় তর্ক-বিতর্কের ঐতিহ্যকে সফলভাবে ফিরিয়ে এনেছে, যেখানে সুস্থ যুক্তির মাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ করা হয় এবং চরম ধৈর্য সহকারে অন্যের মতামতকে সম্মান জানানো হয়। এই অসাধারণ শিক্ষাগত উদ্যোগের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান এবং দেশের অন্য সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকেও এই ধরনের গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করেন।
বর্তমান প্রজন্মের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় অর্থাৎ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির যুগে মানুষের মৌলিক সৃজনশীলতা বাঁচিয়ে রাখার চ্যালেঞ্জ নিয়েও প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে মোদী বলেন, নতুন প্রযুক্তিকে সাদরে গ্রহণ করার পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব সৃজনশীল সত্তাকে টিকিয়ে রাখাই এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর সুনির্দিষ্ট বক্তব্য ছিল, “এটি প্রযুক্তির স্বর্ণযুগ। প্রতিদিন নিত্যনতুন গবেষণা এবং AI-এর অভূতপূর্ব উদ্ভাবন আমাদের সামনে আসছে। এই পরিস্থিতিতে একটি প্রশ্ন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে: মানুষের সহজাত সৃজনশীলতাকে আমরা কীভাবে রক্ষা করব? আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পাশাপাশি কীভাবে আমাদের শিকড়ের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখব?”
পাশাপাশি, দেশের জল সংকট মোকাবিলায় জল সংরক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা জল বাঁচানোর জন্য দেশবাসীর কাছে এক জোরালো ও আন্তরিক আবেদন জানান। তিনি স্পষ্টভাবে দেশবাসীকে মনে করিয়ে দেন যে, সারা দেশজুড়ে জল সংরক্ষণের এই গতি যেন কোনোভাবেই মন্থর না হয়, বরং তা গণআন্দোলনের রূপ নেয়। উল্লেখ্য, হিন্দিতে মূল লাইভ সম্প্রচারের পরেই আকাশবাণীর সমস্ত আঞ্চলিক কেন্দ্রে বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষায় এই অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে সম্প্রচার করা হবে।