পেশা কর ও জিএসটি আইনে বড় পরিবর্তনের পথে রাজ্য! সামনে এল ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ফিন্যান্স বিল ২০২৬’

কর কাঠামোগত নিয়মে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ফিন্যান্স বিল ২০২৬’ (West Bengal Finance Bill 2026)। গত ২৩ জুন প্রকাশিত এই নতুন বিলে মূলত ‘পশ্চিমবঙ্গ স্টেট ট্যাক্স অন প্রফেশনস, ট্রেডস, কলিংস অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্টস অ্যাক্ট, ১৯৭৯’ এবং ‘পশ্চিমবঙ্গ গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্যাক্স (GST) অ্যাক্ট, ২০১৭’-এর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ধারায় সংশোধনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

পেশা কর সংক্রান্ত অস্পষ্টতা দূর করার উদ্যোগ

প্রস্তাবিত নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, রাজ্যে কর্মরত সরকারি, রেলওয়ে কিংবা বেসরকারি ক্ষেত্রের কর্মীদের ক্ষেত্রে একটি দীর্ঘদিনের আইনি ধন্দ বা অস্পষ্টতা দূর করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যেত যে কর্মীদের নিয়োগকর্তার মূল সদর দফতর (Headquarters) বা বেতন প্রদানের স্থান রাজ্যের বাইরে অবস্থিত, যার ফলে পেশা করের দায়বদ্ধতা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতো। নতুন বিলে সেই জট পাকাপাকিভাবে কাটানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি, বিধান অনুযায়ী যেকোনো পেশা, ব্যবসা বা কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিকে বছরে সর্বোচ্চ ২,৫০০ টাকা পেশা কর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে সাধারণ বেতনভোগী কর্মীদের ক্ষেত্রে তাঁদের মাসিক আয়ের ওপর ভিত্তি করে করের পরিমাণ কমানোর কিংবা সম্পূর্ণ ছাড় (শূন্য কর) দেওয়ার বিশেষ ব্যবস্থাও বহাল রাখা হয়েছে। নবান্নের এই নতুন ফিন্যান্স বিলের মাধ্যমে রাজ্যের আর্থিক নিয়মে বড় ধরনের স্বচ্ছতা আসবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল।