২৩ বছর পর শ্রাবণে মহাসংযোগ, এই দিনে শিব পুজো করলে কাটবে সব বাধা

বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে চলতি বছরের ১৭ জুলাই থেকে শ্রাবণ মাস শুরু হয়েছে, আবার বৈদিক পঞ্জিকা মতে গুরু পূর্ণিমার পরের দিন অর্থাৎ ৩০ জুলাই থেকে শ্রাবণ মাস গণ্য করা হয়। সনাতন ধর্মে দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনার জন্য শ্রাবণ মাস অত্যন্ত পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই পবিত্র মাসে শিবশংকরের পুজো করলে ভক্তদের সমস্ত মনস্কামনা পূর্ণ হয়। আর চলতি বছরে শ্রাবণ মাসে এক বিরল ও অলৌকিক ২৩ বছরের মহা সংযোগ তৈরি হয়েছে, যার ফলে আগামী ১৭ আগস্ট ২০২৬ দিনটির গুরুত্ব ও আধ্যাত্মিক মাহাত্ম্য বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
২৩ বছর পর শ্রাবণে মহাসন্ধি ও বিরল শুভ যোগ
আগামী ১৭ আগস্ট একই দিনে একাধিক শুভ যোগের এক অপূর্ব সমাপতন ঘটেছে:
সোমবারে নাগ পঞ্চমী: ওই দিনটি যেমন পবিত্র শ্রাবণ মাসের একটি সোমবার, তেমনই একই দিনে উদিত হচ্ছে নাগ পঞ্চমী তিথি। সুদীর্ঘ ২৩ বছর পর এই দুর্লভ সংযোগ ঘটছে। এর আগে শেষবার ২০০৩ সালে শ্রাবণ সোমবারে নাগ পঞ্চমী পড়েছিল। সর্প দেবতা মহাদেবের অত্যন্ত প্রিয়, কারণ দেবাদিদেবের গলাতেই সর্বদা বিরাজ করেন সর্পরাজ বাসুকি। তাই এই দিনটি রুদ্রাভিষেক, কুষ্ঠ বা কালসর্প দোষ কাটানোর পুজো এবং রাহু-কেতুর অশুভ প্রভাব দূর করার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ দিন।
সিংহ রাশিতে সূর্যের গোচর (সিংহ সংক্রান্তি): ঠিক একই দিনে সূর্যদেব সিংহ রাশিতে প্রবেশ করবেন। ফলে শ্রাবণ সোমবার ও নাগ পঞ্চমীর পাশাপাশি পালিত হবে সিংহ সংক্রান্তিও। এই দিনে মহাদেবের পাশাপাশি সূর্যদেবের আরাধনা করলে জাতকের আত্মবিশ্বাস, মান-সম্মান ও নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
নাগ পঞ্চমী ২০২৬: পুজো করার সঠিক সময় ও তিথি
পঞ্জিকা মতে, ১৬ আগস্ট বিকেল ৪টা ৫২ মিনিটে পঞ্চমী তিথি শুরু হবে এবং তা থাকবে ১৭ আগস্ট বিকেল ৫টা পর্যন্ত। উদয়া তিথি অনুসারে আগামী ১৭ আগস্ট নাগ পঞ্চমী উদযাপিত হবে।
পুজোর শুভ মুহূর্ত: ১৭ আগস্ট পুজোর শ্রেষ্ঠ সময় বা মুহূর্ত হলো সকাল ৫টা ৫১ মিনিট থেকে সকাল ৮টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত।
কীভাবে করবেন এই বিশেষ দিনের পুজো?
এই মহাযোগের দিনে নিয়ম মেনে পুজো করলে দ্বিগুণ ফল লাভ করা সম্ভব:
শিবলিঙ্গে নিয়ম করে শুদ্ধ জল, গঙ্গাজল, দুধ ও বেলপাতা দিয়ে অভিষেক করুন।
পূজোর সময় মনে মনে দেবাদিদেবের পবিত্র ‘ওম নমঃ শিবায়’ এবং মহাশক্তিধর ‘মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র’ একটানা জপ করুন।
সর্প দেবতার পুজোয় তাঁকে হলুদ, চাল, ফুল এবং কাঁচা দুধ নিবেদন করুন।
কুষ্টির রাহু ও কেতুর রোষ বা অশুভ প্রভাব নিবারণ করতে কাছাকাছি শিব মন্দিরে গিয়ে সপরিবারে মহাদেবের বিশেষ রুদ্রাভিষেক সম্পন্ন করুন।