এশিয়ান গেমসে ভারত-পাক মহারণের জোড়া রোমাঞ্চ! কোন সমীকরণে ফাইনালে দেখা হতে পারে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর?

এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনার পারদ হু হু করে চড়তে শুরু করেছে। পুরুষ ও মহিলা—উভয় বিভাগ মিলিয়ে এমন একটি আকর্ষণীয় সূচি প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে টুর্নামেন্টের বিভিন্ন ধাপে ভারত এবং পাকিস্তানের একাধিকবার মুখোমুখি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও আয়োজকরা কৌশলগত কারণে গ্রুপ পর্বের শুরুতেই এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশকে একে অপরের বিরুদ্ধে রাখেননি, তবে নকআউট পর্বের সমীকরণ বলছে যে দলগুলি নিজেদের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ম্যাচ জিততে পারলে সেমিফাইনাল কিংবা মেগা ফাইনালে বহুল প্রতীক্ষিত ভারত-পাক দ্বৈরথ নিশ্চিতভাবেই দেখা যেতে পারে। টুর্নামেন্টের শুরুর আগেই এটি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল যে, এবারের এশিয়ান গেমসের সমস্ত ক্রিকেট ম্যাচ টি-২০ ফরম্যাটেই অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি ম্যাচই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) স্বীকৃত পূর্ণ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে গণ্য করা হবে। এর ফলে এই প্রতিযোগিতার প্রতিটি ম্যাচের ব্যক্তিগত ও দলগত ফলাফল সরাসরি খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানেও যুক্ত হবে। তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে বিসিসিআই ইতিমধ্যেই একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দল গঠন করেছে, যা ভবিষ্যতের তারকাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার এক অনন্য সুযোগ করে দেবে।
এবারের এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটের সমস্ত রোমাঞ্চকর ম্যাচগুলি জাপানের আইচি প্রদেশের বিখ্যাত কোরোগি অ্যাথলেটিক পার্কে অনুষ্ঠিত হবে। সূচির প্রথম ধাপ অনুযায়ী মহিলাদের প্রতিযোগিতা ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এরপর পুরুষদের ক্রিকেট ইভেন্ট শুরু হবে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে এবং তা চলবে ১ অক্টোবর পর্যন্ত। মহিলাদের বিভাগে মোট আটটি শক্তিশালী দল শিরোপার জন্য লড়াই করবে এবং পুরো প্রতিযোগিতাটি সম্পূর্ণ নকআউট পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। টুর্নামেন্টের শীর্ষ বাছাই দল হিসেবে ভারতীয় মহিলা দল সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে তাদের অভিযান শুরু করবে। হরমনপ্রীত কৌরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের প্রথম প্রতিপক্ষ স্বাগতিক জাপান। সেই কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচে কাঙ্ক্ষিত জয় তুলে নিতে পারলে ভারতীয় মেয়েরা সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও চিনের ম্যাচের বিজয়ীর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে ড্রয়ের অন্য অর্ধে শ্রীলঙ্কা-মালয়েশিয়া এবং পাকিস্তান-থাইল্যান্ডের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচগুলি রয়েছে। ফলে গাণিতিক হিসাব অনুযায়ী, ভারত এবং পাকিস্তান যদি তাদের নিজ নিজ ম্যাচগুলো জিতে ফাইনালে পৌঁছায়, তবে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর মহিলাদের ক্রিকেটের সেই সম্ভাব্য হাই-ভোল্টেজ মহারণটি সরাসরি ফাইনালেই দেখা যেতে পারে।
পুরুষদের বিভাগের প্রতিযোগিতার ফরম্যাট এবং কাঠামো কিছুটা ভিন্ন রাখা হয়েছে। র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ধরে রেখে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং বাংলাদেশ সরাসরি মূল নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিয়েছে। বাকি ছয়টি দলকে প্রথমে তীব্র লড়াইয়ের মাধ্যমে বাছাই পর্ব পেরিয়ে মূল পর্বে প্রবেশ করতে হবে। এই দলগুলিকে দুটি আলাদা গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে গ্রুপ ‘এ’-তে আফগানিস্তান, জাপান ও নেপাল এবং গ্রুপ ‘বি’-তে হংকং, মালয়েশিয়া ও ওমান একে অপরের মোকাবিলা করবে। বাছাই পর্বের এই বৈতরণী পার হয়ে সেরা চারটি দল মূল নকআউট পর্বে উন্নীত হবে এবং তারা ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের মতো শক্তিশালী দলগুলির মুখোমুখি হবে। ছেলেদের বিভাগে নকআউট পর্বের নির্ধারিত ড্র অনুযায়ী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার রোমাঞ্চকর লড়াই সেমিফাইনাল অথবা ফাইনাল—উভয় ক্ষেত্রেই হওয়া সম্ভব। বিগত দিনে দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের মুখোমুখি লড়াইয়ের ইতিহাস সবসময়ই ক্রিকেট বিশ্বে আলাদা উন্মাদনা তৈরি করেছে। চার বছর আগে এশিয়ান গেমসে ভারতীয় পুরুষ ও মহিলা উভয় দলই সোনা জিতে ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছিল। বর্তমান তরুণ ব্রিগেড সেই গৌরব ধরে রাখতে কতটা সফল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।