আসানসোলে বিদ্যুতের তার চুরির চাঞ্চল্য! হাতেনাতে ধরে তিন যুবককে গণপিটুনি উত্তেজিত এলাকাবাসীর

পশ্চিম বর্ধমান জেলার শিল্পাঞ্চল আসানসোলে বিদ্যুতের তার চুরির উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং এর জেরে জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হওয়ায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। চুরির সুনির্দিষ্ট সন্দেহে তিন যুবককে হাতেনাতে আটক করে বেধড়ক গণপিটুনি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আসানসোল দক্ষিণ থানার অন্তর্গত মহিশিলা ক্ষুদিরাম পার্কের নিকটবর্তী এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে যা নিয়ে গোটা অঞ্চলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে প্রাপ্ত দীর্ঘদিনের অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই মহিশিলা ক্ষুদিরাম পার্ক এবং সংলগ্ন শিমুলতলা এলাকার একাধিক বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে বৈদ্যুতিক আর্থিং ও পাম্পের তার রহস্যজনকভাবে চুরি হচ্ছিল। এই ঘন ঘন এবং লাগাতার চুরির ঘটনার কারণে সমগ্র এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল এবং তীব্র গরমে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভের পাহাড় জমছিল।

শুক্রবার সকালে স্থানীয় সতর্ক বাসিন্দারা তিন জন যুবককে ওই এলাকায় অত্যন্ত সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখেন। বাসিন্দাদের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা ওই যুবকদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। কিন্তু প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের কথায় বেশ কিছু অসঙ্গতি ও গোলমেলে উত্তর ধরা পড়ে, যা স্থানীয়দের সন্দেহকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এরপরই ক্ষিপ্ত ও উত্তেজিত জনতা ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন এবং ওই তিন যুবককে ঘিরে ধরে চড়াও হন। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং উত্তেজিত জনতা তাদের বেধড়ক মারধর শুরু করে। এই মারধরের জেরে এলাকায় চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার তীব্রতা বুঝতে পেরে স্থানীয় সূত্রে খবর পেয়েই আসানসোল দক্ষিণ থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। পুলিশ অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয় উত্তেজিত জনতার হাত থেকে ওই তিন অভিযুক্ত যুবককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও উদ্ধারকাজের পর পুলিশ এই তার চুরির সংঘবদ্ধ চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে এবং এই চোরাই মাল কোথায় বিক্রি করা হতো, তা উদঘাটন করতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।