রিটার্ন জমা দিলেই কাজ শেষ নয়! বড় বিপদের হাত থেকে বাঁচতে এখনই সেরে নিন এই জরুরি কাজ

আয়কর রিটার্ন (ITR) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সঠিকভাবে জমা দেওয়া করদাতাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বাধ্যতামূলক একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু আইটিআর ফাইল করার পর অধিকাংশ করদাতাই একটি মারাত্মক ভুল করে থাকেন—তাঁরা রিটার্ন জমা দেওয়ার পরই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে মনে করে নিশ্চিন্ত হয়ে যান এবং ই-ভেরিফিকেশন (E-Verification) সম্পূর্ণ করতে ভুলে যান। অথচ আয়কর আইন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, শুধু রিটার্ন আপলোড বা ফাইল করলেই করদায়িত্ব সম্পূর্ণ হয় না। নির্দিষ্ট আইনি সময়সীমার মধ্যে ই-ভেরিফিকেশন না করলে সেই রিটার্নটিকে সম্পূর্ণ অবৈধ বা বাতিল বলে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ, আইনি নথিতে ধরে নেওয়া হবে যে সংশ্লিষ্ট করদাতা চলতি বছরে কোনো রিটার্নই জমাই দেননি। ফলে আইনি খড়্গ তো নামবেই, সঙ্গে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়ার সম্ভাবনাও বহুগুণ বেড়ে যায়।

আয়কর দপ্তরের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, কোনো করদাতার আইটিআর সফলভাবে ই-ভেরিফাই হওয়ার পরই কেবল দপ্তর থেকে সেই রিটার্নের প্রসেসিং বা প্রক্রিয়াকরণ শুরু করা হয়। এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই করদাতার বার্ষিক করের সঠিক হিসাব চূড়ান্ত করা, পাওনা টাকা বা রিফান্ড থাকলে তা দ্রুত অনুমোদন করে অ্যাকাউন্টে পাঠানো এবং প্রয়োজনীয় ট্যাক্স নোটিশ বা আপডেট পাঠানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এগোয়। ফলস্বরূপ, ই-ভেরিফিকেশন সম্পন্ন না করলে আপনার কাঙ্ক্ষিত ট্যাক্স রিফান্ড পেতে অযথা দীর্ঘ বিলম্ব হতে পারে এবং কর সংক্রান্ত অন্যান্য জরুরি পরিষেবাগুলিও মাঝপথেই আটকে যেতে পারে। বর্তমান ডিজিটাল যুগে আয়কর দপ্তরের অফিশিয়াল ই-ফাইলিং পোর্টালের মাধ্যমে অত্যন্ত সহজ এবং দ্রুত পদ্ধতিতে অনলাইনে ঘরে বসেই এই কাজ সেরে ফেলা যায়। এর জন্য আর ডাকযোগে সেন্ট্রালাইজড প্রসেসিং সেন্টারে (CPC) সই করা আইটিআর-ভি (ITR-V) কপি পাঠানোর ঝামেলা পোহাতে হয় না।

অনলাইন ই-ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার জন্য করদাতাদের কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আগে থেকেই নিশ্চিত করে রাখা বাধ্যতামূলক। প্রথমত, আপনার প্যান (PAN) কার্ডের সঙ্গে আধার (Aadhaar) কার্ডের সংযোগ বা লিঙ্ক থাকা আবশ্যিক। দ্বিতীয়ত, করদাতার ব্যাংক অ্যাকাউন্টটি ই-ফাইলিং পোর্টালে প্রি-ভ্যালিডেটেড থাকতে হবে এবং আধারের সঙ্গে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরটি সবসময় সচল রাখতে হবে যাতে সময়মতো ওটিপি (OTP) পাওয়া যায়। এছাড়া দ্রুত ভেরিফিকেশনের জন্য আইটিআর অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর হাতের কাছে রাখা অত্যন্ত জরুরি। করদাতাদের সুবিধার জন্য আয়কর দপ্তর বর্তমানে একাধিক আধুনিক ই-ভেরিফিকেশন পদ্ধতি চালু করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় পদ্ধতি হলো আধার ওটিপি (Aadhaar OTP), যার মাধ্যমে আধারের সঙ্গে রেজিস্টার্ড মোবাইলে আসা ওটিপি ব্যবহার করে নিমেষেই ভেরিফিকেশন করা সম্ভব। এছাড়া প্রি-ভ্যালিডেটেড ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা এটিএম-এর মাধ্যমে ইলেকট্রনিক ভেরিফিকেশন কোড (EVC), নেট ব্যাংকিং (Net Banking), অথবা ডিজিটাল সিগনেচার সার্টিফিকেট (DSC)-এর মতো বিকল্প মাধ্যমগুলিও ব্যবহার করা যায়। তাই চলতি আইটিআর ফাইলিং মরশুমে কোনো রকম ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত ই-ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন এবং আর্থিক জটিলতা থেকে মুক্ত থাকুন।