আগের বিবাহবিচ্ছেদই কি কাল হলো? মেমারিতে নাবালিকা বধূকে অপহরণ করে নৃশংসতার অভিযোগে গ্রেফতার দুই

পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থানা এলাকায় এক নাবালিকাকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে পৈশাচিক যৌন নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর ও লজ্জাজনক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। এই জঘন্য অপরাধের অভিযোগে পুলিশ ইতিমধ্যেই দু’জন কুখ্যাত অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, যা ঘিরে গোটা এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন রাতে নির্যাতিতা নাবালিকা তার মায়ের সঙ্গে বাড়িতেই ছিল। প্রকৃতির ডাকে সে শৌচালয়ে গেলে সেই সুযোগে ওত পেতে থাকা কয়েকজন দুষ্কৃতী তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। এরপর একটি নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তার উপর নির্মমভাবে যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ। পাশবিক অত্যাচার চালানোর পর নির্যাতিতাকে সম্পূর্ণ অচৈতন্য অবস্থায় তার বাড়ির উঠোনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় পাষণ্ডরা।

পরবর্তীতে মেয়ের গোঙানির ও কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয় প্রতিবেশীরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। দ্রুত তাকে প্রথমে পাহাড়হাটি ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়, কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে পরে তাকে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমানে নির্যাতিতা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মেমারি থানার পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই তদন্তে নামে এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ধৃত দুজনেই মেমারি এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়।

তদন্তে নেমে পুলিশ বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে। পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে ওই নাবালিকার বিয়ে হয়েছিল। প্রেমের সম্পর্কের জেরে পাশের বাড়ির এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হলেও মাত্র তিন মাস পরেই সেই সংসার ভেঙে যায়। এরপর থেকেই সে নিজের বাপের বাড়িতে ফিরে এসে বসবাস করছিল। পরিবারের অভিযোগ, বৈবাহিক সম্পর্ক ভাঙার পর থেকেই এলাকার বেশ কয়েকজন বখাটে যুবক তাকে নানাভাবে উত্যক্ত করত এবং কুনজর দিত। পূর্বের এই ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রতিক এই নৃশংস অপরাধের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা অত্যন্ত নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার নেপথ্যে কোনো সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল কি না, তা জানতেও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, পরিবারের সমস্ত অভিযোগ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে এবং সংবেদনশীলতার সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্যাতিতার শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সমস্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহের কাজও জোরকদমে চলছে। পুলিশ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, এই ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত প্রত্যেকটি অভিযুক্তকে কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। সমাজে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসন যে কোনো প্রকার অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি নিয়ে এগোচ্ছে, তা এই দ্রুত পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।