ইউপিএসসি-র আদলে এবার এক ছাতায় সমস্ত কেন্দ্রীয় পরীক্ষা! প্রশ্নপত্র ফাঁস রুখতে মোদী সরকারের মেগা মাস্টারস্ট্রোক

ভারতের চাকরি পরীক্ষার দীর্ঘদিনের ইতিহাস এবং রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে থাকা অনিয়ম, দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিশাপ থেকে কোটি কোটি তরুণ প্রজন্মকে মুক্ত করতে এবার এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। ইউপিএসসি (UPSC)-র মতো অত্যন্ত সুপরিচিত ও মর্যাদাপূর্ণ সর্বভারতীয় পরীক্ষার আদলে এবার দেশের সমস্ত কেন্দ্রীয় চাকরির পরীক্ষা পরিচালনার জন্য একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন ও একক কর্তৃপক্ষ গঠনের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই নতুন প্রস্তাবিত সংস্থাটি ভবিষ্যতে দেশের সমস্ত সরকারি চাকরির পরীক্ষার জন্য প্রশ্নপত্র তৈরি করা থেকে শুরু করে পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণ, কড়া পরিদর্শক নিয়োগ এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত গোটা প্রক্রিয়াটি এককভাবে ও কঠোর নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করবে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি মন্ত্রক এবং স্বশাসিত সংস্থাগুলি নিজেদের মতো আলাদা আলাদাভাবে বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষা পরিচালনা করে থাকে। স্টাফ সিলেকশন কমিশন (SSC), রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড (RRB), এবং ব্যাংকিং সার্ভিসেস রিক্রুটমেন্ট ইনস্টিটিউট (IBPS)-এর মতো প্রধান প্রতিষ্ঠানগুলি নিজস্ব নিয়মে পরীক্ষা নিয়ে থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রথার মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস, কেলেঙ্কারি, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতার গুরুতর অভিযোগ উঠে আসছিল। এর ফলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের লক্ষ লক্ষ মেধাবী চাকরিপ্রার্থী বছরের পর বছর ধরে দিনরাত এক করে কঠোর প্রস্তুতি নিলেও বারবার এই ধরনের প্রশাসনিক অব্যবস্থা ও দুর্নীতির কারণে তাদের সোনালী স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। যুবসমাজের মধ্যে তৈরি হওয়া এই ক্রমবর্ধমান হতাশা দূর করতেই মোদী সরকার এই কড়া সংস্কারের পথে হাঁটছে।
সরকারি সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই অভূতপূর্ব প্রশাসনিক সংস্কারের পেছনে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সমর্থন রয়েছে। ইতিমধ্যেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ দ্রুতগতিতে শুরু হয়ে গেছে এবং দেশের প্রথম সারির শিক্ষা ও প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দফায় দফায় উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে আগামী বছরের মধ্যেই এই স্বাধীন কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণরূপে মাঠে নামানোর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অভিনব উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ভারতের সামগ্রিক চাকরির পরীক্ষা ব্যবস্থায় এক অভূতপূর্ব ও বিপ্লবাত্মক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন নীতি নির্ধারকরা।
ইউপিএসসি যেভাবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং কঠোর নিরাপত্তার সঙ্গে দেশের মর্যাদাপূর্ণ সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা সফলভাবে পরিচালনা করে বিশ্বজুড়ে সুনাম অর্জন করেছে, ঠিক সেই একই সোনালী মানদণ্ডে দেশের বাকি সমস্ত কেন্দ্রীয় চাকরির পরীক্ষাকেও পরিচালনা করা হবে। এই নতুন স্বাধীন সংস্থার অধীনে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ, বিশেষ বিশেষজ্ঞ প্যানেল দ্বারা প্রশ্ন প্রণয়ন, প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি (CCTV) মনিটরিংসহ নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সম্পূর্ণরূপে কলঙ্কমুক্ত ফলাফল প্রকাশ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হবে। একক কর্তৃপক্ষের হাতে সম্পূর্ণ দায়িত্ব থাকার কারণে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে প্রশাসনিক সমন্বয় সাধনও অত্যন্ত সহজ ও ত্রুটিহীন হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই মেগা মাস্টারস্ট্রোক আগামী দিনে দেশের কোটি কোটি যোগ্য ও পরিশ্রমী প্রার্থীর ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত করতে সবচেয়ে বড় ঢাল হয়ে উঠবে।