২৬ দিন পর শেষ হল ঐতিহাসিক অনশন! সোনম ওয়াংচুকের কোন শর্তে বড় জয় পেল দেশের ছাত্রসমাজ?

ভারতের বিশিষ্ট সামাজিক কর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক টানা ২৬ দিন ধরে চালিয়ে যাওয়া তাঁর অনির্দিষ্টকালের ঐতিহাসিক অনশন অবশেষে সফলভাবে ভেঙেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদী দাবিগুলি বিবেচনা করার লিখিত ও মৌসলিক আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি এই বড় সিদ্ধান্ত নেন। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল সংস্কার এবং পরীক্ষামূলক জালিয়াতি রোধের দাবিতে চলা এই আন্দোলন দেশজুড়ে এক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তাপ সৃষ্টি করেছিল।
নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে এই অনশন প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করে সোনম ওয়াংচুক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে লিখেছেন, “আজ আমাদের এই দীর্ঘ অনশনের সমাপ্তি ঘটল, তবে এটি মূলত দেশের প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এক নতুন জবাবদিহিতার সূচনা মাত্র।” আন্দোলন চলাকালীন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে রাজনৈতিক দল নির্বিশেষে মোট ৬৫ জন সাংসদ তাঁর সাথে সরাসরি দেখা করেন অথবা অনশন প্রত্যাহার করার জন্য তাঁকে বিশেষ আহ্বান জানিয়ে নিজেদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। দীর্ঘ এবং ফলপ্রসূ আলোচনার পর এবং দেশের সাধারণ মানুষের বৃহত্তর স্বার্থে এবং যে কোনো ধরনের অনভিপ্রেত অশান্তি এড়ানোর কথা মাথায় রেখেই তিনি এই অনশন ভাঙার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেন।
ঘটনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে শুক্রবার গভীর রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে গুরুগ্রামের বিখ্যাত মেদান্তা হাসপাতালে সশরীরে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের সাথে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন। এরপরই ওয়াংচুক তাঁর অনশন ভাঙার কথা ঘোষণা করেন। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সামাজিক মাধ্যমে সোনম ওয়াংচুকের অনশন প্রত্যাহারের এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তাঁর দ্রুত রোগমুক্তি ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে চিকিৎসকদের সমস্ত পরামর্শ ও নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলার বিশেষ আহ্বান জানান।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে এই আশ্বাসের পর অনশন ভাঙলেও, যে মূল সংগঠনটি পুরো আন্দোলনটির প্রথম থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল, তারা অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে সোনম ওয়াংচুক ব্যক্তিগতভাবে তাঁর অনশন সমাপ্ত করলেও দেশের সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও অন্যান্য অমীমাংসিত দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের মূল আন্দোলন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে অবিরাম চালিয়ে যাওয়া হবে।