সোহেল খানের কোন কান্ডে হাসির রোল পড়ে গেল নেটদুনিয়ায়? জানলে আপনিও অবাক হবেন!

বলিউড সুপারস্টার সালমান খানের ভাই তথা জনপ্রিয় অভিনেতা সোহেল খান বর্তমানে অভিনেতা কুনাল খেমুর পরিচালনায় নির্মিত বহুল আলোচিত রিয়েলিটি শো ‘অ্যালায়েন্স’-এ প্রতিযোগী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। এই শো-তে অংশ নেওয়ার পর থেকেই তিনি একের পর এক চাঞ্চল্যকর এবং মজার তথ্য প্রকাশ করে দর্শকদের নজর কেড়ে চলেছেন। তার এই অকপট স্বীকারোক্তিগুলো শো-টির প্রচারের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রিয়েলিটি শো-টির সাম্প্রতিক একটি পর্বে অভিনেতা এমন এক ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করেন, যা মুহূর্তের মধ্যে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায় এবং নেটিজেনদের কাছ থেকে উপচে পড়া মজাদার মন্তব্যের প্লাবণ বয়ে আনে। আসলে, সোহেল খান ক্যামেরার সামনে সম্পূর্ণ সাবলীলভাবে স্বীকার করে নেন যে তিনি তার দীর্ঘ জীবনে এই প্রথমবার কম্পিউটারের কিবোর্ড ব্যবহার করেছেন এবং কীভাবে এটি চালাতে হয় সে বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণাই ছিল না।

সোহেল খানের এই অপ্রত্যাশিত এবং সরল স্বীকারোক্তি শোনার পর সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা যেমন হতবাক হয়ে যান, তেমনই নেটপাড়ায় মিমের জোয়ার বয়ে যায়। বিশেষ করে অতি-ধনকুবের জীবনযাপনের কারণে সাধারণ প্রযুক্তির ছোঁয়া থেকে দূরে থাকার বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনরা বিভিন্ন রসাত্মক মন্তব্য করতে শুরু করেন। একজন অনুরাগী যেমন মজা করে লিখেছেন, “অমিত ধনসম্পদের মালিক হওয়ার এটিই হলো সবচেয়ে বড় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া!” চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক ঠিক কী ঘটেছিল এবং সাধারণ মানুষ এই বিষয়ে কেমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

শো-এর একটি নির্দিষ্ট টাস্ক চলাকালীন এই মজার ঘটনাটি ঘটে। সোহেল খান জানান যে স্ক্রিনে পশুর ছবি শনাক্ত করা বা অন্য কোনো কাজ তার কাছে কঠিন মনে না হলেও, কিবোর্ড চালিয়ে উত্তর টাইপ করাটাই ছিল তার জন্য জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি হাসতে হাসতে দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি ‘দ্য অ্যালায়েন্স’ রিয়েলিটি শো-এর মাধ্যমে আমার জীবনের ঠিক এই প্রথমবার একটি কিবোর্ড ব্যবহার করলাম। আমার কাছে এর সবচেয়ে কঠিন অংশটি ছিল এটি ঠিক কীভাবে সামলাতে হয় বা কাজ করাতে হয় তা বোঝা। বিশ্বাস করুন, কিবোর্ড চালাতে গিয়ে আমার রীতিমতো ঘাম ছুটে গিয়েছিল, কারণ এর আগে আমি কখনো কিবোর্ড ছুঁয়েও দেখিনি।”

প্রখ্যাত ওটিটি প্ল্যাটফর্ম প্রাইম ভিডিও-র অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই ভিডিও ক্লিপটি শেয়ার করার সাথে সাথেই তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। সোহেল খানের এই সরলতা ও রাখঢাকহীন সততা অনেকেরই মন জয় করে নেয়। এক নেটিজেন কমেন্ট বক্সে লিখেছেন, “দৃশ্যটি এতটাই মজার ছিল যে আমি না হেসে পারিনি।” অন্য একজন প্রশংসাসূচক মন্তব্য করে লিখেছেন, “সোহেল অত্যন্ত সরল একজন মানুষ এবং তার মনের ভেতরটা খুব পবিত্র।” কেউ কেউ আবার ভালোবেসে তাকে ‘পুকি ম্যান’ বলেও সম্বোধন করেছেন।

তবে সব মানুষ সবসময় একই দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি দেখেন না। সোহেল খানের মতো একজন তারকা জীবনে কখনো কিবোর্ড ব্যবহার করেননি—এই তথ্যটি জানার পর একাংশ মানুষ তাকে নিয়ে ট্রোল করতেও ছাড়েননি। এক সমালোচক সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “তিনি এতটাই সুবিধাপ্রাপ্ত ও বিলাসবহুল জীবন কাটিয়েছেন যে তাকে জীবনে কখনো একটা কিবোর্ডও স্পর্শ করতে হয়নি।” আরেকজন কটাক্ষ করে লিখেছেন, “বড়লোক হওয়ার এগুলিই হলো অন্যতম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।” এমনকি শো-টির প্রেক্ষাপটে তাকে সরাসরি “সবচেয়ে বাজে ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রি” বলেও কটূক্তি করেছেন কেউ কেউ। সব মিলিয়ে সোহেলের এই কিবোর্ড বিতর্ক এখন বিনোদন দুনিয়ার অন্যতম হট টপিক।