জন্তর মন্তরের উত্তাপ সরাসরি পৌঁছে গেল শ্রেণিকক্ষে! অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য জরুরি নির্দেশিকা জারি

দিল্লির জন্তর মন্তরে চলমান তীব্র বিক্ষোভ এখন শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতকেই নয়, বরং সরাসরি প্রভাব ফেলছে স্কুল পড়ুয়াদের পড়াশোনা ও সুরক্ষার ওপর। মধ্য দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে লাগাতার যানজট এবং রাস্তা বন্ধ থাকার কারণে ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এই জটিল পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়ায় রাজধানীর একাধিক স্বনামধন্য স্কুল তাদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ এবং পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় এবং তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যার মুখে পড়েছে সেইসব কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা, যারা প্রতিদিন এই সংবেদনশীল এলাকাটি অতিক্রম করে স্কুলে যাতায়াত করে। একাধিক রাস্তায় ট্রাফিক রেস্ট্রিকশন ও তীব্র যানজটের জেরে শিক্ষার্থীদের সময়মতো স্কুলে পৌঁছানো এবং স্কুল ছুটির পর নিরাপদে বাড়ি ফেরা অত্যন্ত দুরূহ হয়ে উঠেছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে স্কুল কর্তৃপক্ষগুলো হাত গুটিয়ে বসে না থেকে দ্রুত অস্থায়ী ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে হুমায়ুন রোডের স্বনামধন্য আর. এস. জুনিয়র মডার্ন স্কুল একটি বড় ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি গত ২৪শে জুলাই থেকে পরবর্তী নির্দেশিকা জারি না হওয়া পর্যন্ত নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ হাইব্রিড পদ্ধতিতে পাঠদান শুরু করেছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা চাইলে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হতে পারবে অথবা সম্পূর্ণ নিরাপদ দূরত্বে বাড়ি বসেই অনলাইনে ক্লাসে অংশ নিতে পারবে। স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কড়া নির্দেশিকা দিয়ে জানানো হয়েছে যে, অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়া সকল শিক্ষার্থীকে অবশ্যই সঠিক স্কুল ইউনিফর্ম পরে থাকতে হবে এবং নির্দিষ্ট মাইক্রোসফট টিমস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই কেবল ক্লাসে যুক্ত হতে হবে।
অন্যদিকে, কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে অফলাইন ক্লাসও চালু রেখেছে। যেমন, টানা দুই দিন অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করার পর সর্দার প্যাটেল বিদ্যালয় গত বৃহস্পতিবার থেকেই পুনরায় তাদের নিয়মিত অফলাইন ক্লাস চালু করেছে। তবে যানজট ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্কুল কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এলাকার অভিভাবকদের সর্বদা সতর্ক ও সচেতন থাকার বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে স্কুল বাসের রুটও পরিবর্তন করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। স্কুল প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশ, বর্তমান নিরাপত্তা ও যানজটের প্রকৃত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে যেকোনো মুহূর্তে স্কুল বাসের রুট বদল করা হতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অভিভাবকদের স্কুল পরিবহন কর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে এবং প্রয়োজনে নিজেদের দায়িত্বে নির্ধারিত স্থান কিংবা সরাসরি স্কুল থেকে সন্তানদের বাড়ি নিয়ে আসার অনুরোধ করা হয়েছে।
চলমান এই আন্দোলনের জেরে মধ্য দিল্লির বিস্তীর্ণ অঞ্চলের রাস্তাঘাট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লি মেট্রোর বিভিন্ন স্টেশনের গেটও প্রয়োজনে বারবার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে যেসব ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এই সংবেদনশীল এলাকায় অবস্থিত, তাদের বাড়ি থেকে রওনা দেওয়ার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সর্বশেষ আপডেট জেনে নেওয়ার পরম পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোতে যদি অনলাইন পড়াশোনার সুব্যবস্থা চালু থাকে, তবে অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি এড়াতে ছাত্রছাত্রীরা অনায়াসেই বাড়ি থেকে ক্লাসে অংশ নিয়ে তাদের মূল্যবান পড়াশোনা নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে যেতে পারে।