মহানায়কের প্রয়াণ তিথিতে বায়োপিকের চমক! ভয়ংকর পোড়া লুকে পর্দায় ফিরছেন মহুয়া রায়চৌধুরী!

বাঙালি সংস্কৃতির মানচিত্রে এমন কিছু নাম খোদাই করা রয়েছে, যেগুলির আবেদন সময়ের সীমানা পেরিয়ে আজও সমানভাবে অটুট। টেলিভশনের পর্দা থেকে সেলুলয়েড—সব জায়গাতেই তাঁদের জাদুকরি উপস্থিতি দর্শকদের আজও নস্টালজিক করে তোলে। বাংলা চলচ্চিত্রের অবিসংবাদিত ‘মহানায়ক’ উত্তম কুমার এবং জনপ্রিয় অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরীর জীবন ও মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এমন কিছু অদ্ভুত ও মর্মান্তিক কাকতালীয় ঘটনা, যা শুনলে যেকোনো মানুষের গায়ে কাঁটা দিতে বাধ্য। মৃত্যুর দিনগুলি পাশাপাশি, অথচ মাঝখানে শুধু পাঁচ বছরের ব্যবধান। ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই বাংলার মহানায়ক শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন, আর ঠিক তার পাঁচ বছর পর ১৯৮৫ সালের ২২ জুলাই এক মর্মান্তিক অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনায় পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে চলে যান প্রতিভাবান অভিনেত্রী মহুয়া রায়চৌধুরী। একই মাসের এই দুই নক্ষত্রপতনের শোক আজও বাঙালি ভুলতে পারেনি।

উত্তম কুমার ও মহুয়া রায়চৌধুরী একসঙ্গে মোট পাঁচটি স্মরণীয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন, যা সেই সময়ে বক্স অফিসে দারুণ সাড়া ফেলেছিল। ১৯৭৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বাঘ বন্দি খেলা’ ছবির হাত ধরে প্রথমবার সিলভার স্ক্রিনে জুটি বেঁধেছিলেন তাঁরা। এই ছবির পরিচালনা করেছিলেন প্রখ্যাত পিযুষ বসু এবং একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুপ্রিয়া দেবী। এরপর দর্শকের ভালোবাসায় ভর করে একে একে ‘প্রতিশোধ’, ‘ইমন কল্যাণ’, ‘সেই চোখ’ এবং ‘সূর্য সাক্ষী’-র মতো সাড়া জাগানো ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেন এই দুই তারকা। সমসাময়িক গুঞ্জন ও চলচ্চিত্র মহলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে মহুয়া রায়চৌধুরীর বয়সের উল্লেখযোগ্য ব্যবধান থাকার কারণে তাঁদের অফস্ক্রিন সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর না হলেও, প্রফেশনাল কমিটমেন্ট এবং কাজের প্রতি নিখুঁত শ্রদ্ধার সুবাদে তাঁদের মধ্যে একটি চমৎকার বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল। কিন্তু অদ্ভুত নিয়তির ফেরে দুই কিংবদন্তির মৃত্যুর মাস ও তারিখের এই মিল আজও চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে।

চার দশকের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বাংলা সিনেমা জগতে আজও উত্তম কুমারের কোনো বিকল্প তৈরি হয়নি। প্রজন্ম বদলালেও তাঁর নামের জাদু আজও বাঙালি হৃদয়ে সমানভাবে জীবন্ত। মহানায়কের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর একটি আবক্ষমূর্তি এবং বিশেষ স্মারকফলক উন্মোচন করা হবে। পাশাপাশি, মহানায়কের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে টলিপাড়ার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত থাকবেন।

অন্যদিকে, মহুয়া রায়চৌধুরীর প্রয়াণ দিবসের ঠিক আগেই প্রকাশ্যে এসেছে তাঁর বহুল প্রতীক্ষিত বায়োপিকের একটি রোমহর্ষক শুটিং দৃশ্য। সেট থেকে ফাঁস হওয়া ছবিতে মহুয়ার চরিত্রে দেখা গিয়েছে অভিনেত্রী অঙ্কিতাকে। তবে কোনো চেনা গ্ল্যামারাস লুকে নয়, বরং এক ভয়ংকর পোড়া চামড়ার বিভীষিকা মাখা রূপান্তরে ধরা দিয়েছেন তিনি। টলিপাড়ার প্রখ্যাত রূপটানশিল্পী সোমনাথ কুণ্ডুর নিখুঁত এবং অতুলনীয় প্রস্থেটিক মেক-আপের কল্যাণে অঙ্কিতার ওই অগ্নিদগ্ধ লুক এতটাই জীবন্ত ও বাস্তবসম্মত হয়েছে যে, তা দেখে খোদ সেটের কলাকুশলীরাও রীতিমতো শিউরে উঠেছেন। মহানায়ক উত্তম কুমারের এই শ্রদ্ধানুষ্ঠান এবং মহুয়া রায়চৌধুরীর বায়োপিকের এই নতুন ঝলক এখন নেটপাড়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।