নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের পরই বড় ধাক্কা! উচ্চশিক্ষা সচিব পদ থেকে হঠাৎ সরানো হলো বিনীত যোশীকে!

দেশজুড়ে নিট (NEET) ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং লাগাতার অনিয়ম নিয়ে যখন তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষ চরমে উঠেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। উচ্চশিক্ষা মন্ত্রকের সচিবের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো প্রবীণ আইএএস অফিসার বিনীত যোশীকে। যদিও তাঁকে সরাসরি বরখাস্ত করা হয়নি, তবুও শিক্ষামন্ত্রকের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র থেকে সরিয়ে তাঁকে সোজা পঞ্চায়েতিরাজ মন্ত্রকে বদলি করা হয়েছে। বর্তমান উত্তাল পরিস্থিতিতে সরকারের এই আচমকা রদবদলকে নিছক রুটিন প্রশাসনিক বদলি হিসেবে দেখতে নারাজ দেশের রাজনৈতিক ও ওয়াকিবহাল প্রশাসনিক মহল।
১৯৯২ ব্যাচের আইএএস অফিসার বিনীত যোশী তাঁর দীর্ঘ বর্ণময় কর্মজীবনে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র প্রথম মহাপরিচালক, সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসই-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং উচ্চশিক্ষা সচিবের মতো দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদগুলি সফলভাবে সামলেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে লাগাতার প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত হয়ে ওঠা পরীক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁর নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকায়, এই অপসারণকে অত্যন্ত অর্থবহ বলে মনে করা হচ্ছে। কোটি কোটি পরীক্ষার্থী এবং তাঁদের অভিভাবকদের ক্ষোভের মুখে পড়ে সরকারের এই শীর্ষ স্তরের পরিবর্তন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বিরাট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বিনীত যোশীর খালি করা এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন ১৯৯৪ ব্যাচের দক্ষ আইএএস অফিসার নরেশ পাল গাঙ্গোয়ার। তবে নতুন উচ্চশিক্ষা সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার সঙ্গেই তাঁর সামনে পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। প্রশাসনিক রুটিন কাজের পাশাপাশি দেশের লক্ষ লক্ষ বিক্ষুব্ধ ও হতাশ পড়ুয়ার হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ও আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ভেঙে পড়া পরীক্ষা ব্যবস্থায় দ্রুত স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা ফেরানোই এখন তাঁর প্রধান ও একমাত্র লক্ষ্য। এর আগেও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ফলপ্রকাশ ও মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে কেন্দ্র সরকার শীর্ষ স্তরে প্রশাসনিক রদবদল ঘটিয়েছিল।
এদিকে, সিজেপি (CJP)-র ব্যানারে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থী ও ছাত্র-যুবরা শুধুমাত্র একজন আমলা বা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতেই থামতে নারাজ। তাঁদের সুনির্দিষ্ট ও মূল দাবি হলো, গোটা শিক্ষা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল ও কাঠামোগত সংস্কার। দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন থেকে শুরু করে মুদ্রণ, নিরাপদ পরিবহন এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বহুস্তরের প্রশাসনিক কাঠামোর চরম গাফিলতির ফলেই এই ভয়াবহ কেলেঙ্কারি ঘটেছে। তাই কেবল শীর্ষ স্তরে মুখ বদল বা তড়িঘড়ি রদবদলের মাধ্যমে এই গভীর কাঠামোগত ত্রুটিগুলি আদৌ দূর হবে কি না, সেটাই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।