রিচার্জ ফুরোতেই বন্ধ হচ্ছে ইনকামিং কল! টেলিকম কোম্পানিগুলির এই গোপন নীতি নিয়ে সংসদে কড়া জবাব কেন্দ্রের

মোবাইল রিচার্জের মেয়াদ শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ইনকামিং কল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পুরনো সমস্যাটি নিয়ে ফের একবার সরগরম হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক মহল। রিচার্জের ভ্যালিডিটি ফুরোতেই এত দ্রুত কেন গ্রাহকদের পরিষেবা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হচ্ছে এবং এর নেপথ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট সরকারি নীতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও উদ্বেগ রয়েছে। সম্প্রতি সংসদের উভয় কক্ষে এই স্পর্শকাতর বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়েছিল, যার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে বিস্তারিত ও চাঞ্চল্যকর প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়েছে।

রাজস্থানের বাঁসওয়ারা লোকসভা কেন্দ্রের সংসদ সদস্য রাজকুমার রোয়াত এই বিষয়ে সংসদে একাধিক গুরুতর প্রশ্ন তোলেন। তিনি সরাসরি যোগাযোগ মন্ত্রীর কাছে জানতে চান যে, রিচার্জের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই ইনকামিং পরিষেবা বন্ধ করার যে অঘোষিত ধারা টেলিকম সংস্থাগুলি চালু করেছে, তার প্রকৃত নিয়ন্ত্রক ভিত্তি বা আইনি বৈধতা কী? পাশাপাশি তিনি এও প্রশ্ন করেন যে, এই নীতি বাস্তবায়িত হওয়ার পর থেকে দেশের সমস্ত টেলিকম সংস্থাগুলি অতিরিক্ত কত পরিমাণ রাজস্ব আয় করেছে? বর্তমান যুগে যাঁদের পেশাগত বা ব্যক্তিগত কারণে একাধিক সিম কার্ড ব্যবহার করতে হয়, তাঁদের ওপর ডবল রিচার্জের এই আর্থিক বোঝা লাঘব করতে সরকার কী ধরনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, সেই প্রশ্নও তোলেন এই সাংসদ। বিশেষ করে, রিচার্জ শেষ হওয়ার পরও ইনকামিং কল যাতে বন্ধ না হয়, সেই মর্মে টেলিকম কোম্পানিগুলির ওপর কোনো কঠোর ও সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রণমূলক নির্দেশিকা সরকার জারি করার কথা ভাবছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়।

সংসদে এই প্রশ্নের লিখিত ও বিস্তারিত জবাব দেন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ডঃ পেম্মাসানি চন্দ্রশেখর। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি অফ ইন্ডিয়া অ্যাক্ট, ১৯৯৭-এর আইনগত ক্ষমতা বলে ট্রাই (TRAI)-কে টেলিযোগাযোগ পরিষেবার বিভিন্ন ট্যারিফ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারির একচ্ছত্র অধিকার দেওয়া হয়েছে। বর্তমান টেলিকম ট্যারিফ কাঠামো অনুযায়ী, ন্যাশনাল রোমিং, গ্রামীণ ল্যান্ডলাইন পরিষেবা, মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি এবং লিজড সার্কিট ছাড়া বাকি সমস্ত মোবাইল ও ডেটা পরিষেবার ট্যারিফের ক্ষেত্রে বাজারভিত্তিক ছাড়ের নিয়ম প্রযোজ্য রয়েছে। বিদ্যমান নিয়ন্ত্রক নিয়মকানুন কঠোরভাবে মেনে চলার শর্ত সাপেক্ষে, দেশের সমস্ত বেসরকারি ও সরকারি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের নিজস্ব বাণিজ্যিক বিবেচনা ও বাজারের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ট্যারিফ নির্ধারণ ও অফার প্রদান করতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, তীব্র বাজার প্রতিযোগিতা এবং ট্রাই-এর সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামোর ফলেই বর্তমানে ভারতের মোবাইল গ্রাহকরা বিশ্বের অন্যতম সর্বনিম্ন মূল্যে টেলিকম পরিষেবা উপভোগ করার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ট্রাই-এর বর্তমান নিয়ন্ত্রক নির্দেশিকায় রিচার্জের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই ইনকামিং পরিষেবা বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ করে দেওয়ার মতো কোনো নির্দিষ্ট বা কঠোর নিয়ম নেই, যা টেলিকম সংস্থাগুলি নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থে প্রয়োগ করে থাকে।

অন্যদিকে, রিচার্জের মেয়াদ বর্তমানের ঐতিহ্যগত ২৮ দিনের পরিবর্তে সরাসরি ৩০ দিন বা এক মাস করার জন্য ট্রাইকে কোনো বাধ্যতামূলক নির্দেশ দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে সাফাই দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয় যে, ট্রাই ইতিমধ্যে টেলিকম ট্যারিফ অর্ডার, ১৯৯৯-এর ৬৬তম এবং ৬৭তম সংশোধনীর মাধ্যমে এটি সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে যে, দেশের প্রতিটি টেলিকম সংস্থাকে আবশ্যিকভাবে ৩০ দিনের মেয়াদযুক্ত অন্তত একটি প্ল্যান ভাউচার, একটি স্পেশাল ট্যারিফ ভাউচার এবং একটি কম্বো ভাউচার গ্রাহকদের জন্য বাজারে উপলব্ধ রাখতে হবে।

뿐만 아니라, এই বিশেষ প্ল্যানগুলির ক্ষেত্রে নিয়ম রাখা হয়েছে যে প্রতিটি ভাউচার প্রতি মাসের নির্দিষ্ট একই তারিখে নবায়ন করতে হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট মাসে সংশ্লিষ্ট তারিখটি না থাকে (যেমন ফেব্রুয়ারি বা ৩০ দিনের মাসগুলিতে), তবে সেই মাসের একদম শেষ দিনটিকেই নবায়নের বা রিনিউয়ালের শেষ তারিখ হিসেবে গণ্য করা হবে। সরকারের এই ব্যাখ্যার পর টেলিকম গ্রাহকদের একাংশ কিছুটা স্বস্তি পেলেও, ইনকামিং কল বন্ধের মতো বাণিজ্যিক স্বেচ্ছাচারিতা রোধে আরও কঠোর আইন প্রণয়নের দাবি জোরালো হচ্ছে।