ইংল্যান্ড সফর শেষ হতেই ভারতীয় ক্রিকেটে বড় আঘাত! হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে জর্জরিত তারকারা, ক্ষোভ প্রকাশ শুভমান গিলের

ইংল্যান্ড সফর শেষ হতেই ভারতীয় ক্রিকেট দলের অন্দরে চোট-আঘাতের সমস্যা আবারও অত্যন্ত প্রকট আকার ধারণ করেছে। একের পর এক তারকা ক্রিকেটার হ্যামস্ট্রিং ও অন্যান্য পেশির চোটে আক্রান্ত হওয়ায় ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে ভারতের ওয়ান ডে অধিনায়ক শুভমান গিল প্রকাশ্যে এই শোচনীয় পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করায় গোটা বিসিসিআই মহলে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও কাজের চাপ বা ওয়ার্কলোড পরিচালনার ক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে।

সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিসিসিআইয়ের অন্দরের এক শীর্ষ সূত্রের দাবি যে, বেঙ্গালুরুস্থিত প্রেস্টিজিয়াস সেন্টার অফ এক্সেলেন্স, জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্ট এবং ক্রিকেটারদের নিজেদের মধ্যে ফিটনেস ও ওয়ার্কলোড সামলানোর বিষয়ে সঠিক ও স্বচ্ছ যোগাযোগের মারাত্মক অভাব রয়েছে। বিগত বছর থেকে এই অভ্যন্তরীণ সমস্যা আরও বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের পরিষ্কার মন্তব্য, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির ঘটনা স্পষ্ট প্রমাণ করে দিচ্ছে যে বেশ কয়েকজন তারকা ক্রিকেটার সম্পূর্ণ ম্যাচ ফিট না হওয়া সত্ত্বেও মাঠে নেমে পড়েছেন। অথচ এই সমস্ত স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট ও সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের উচ্চপদস্থ কর্তাদের মধ্যে সুনির্দিষ্ট এবং স্পষ্ট আলোচনা হওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।

প্রতিবেদনে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে যে, নিতিন প্যাটেল দায়িত্ব ত্যাগ করার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত সেন্টার অফ এক্সেলেন্সে কোনো স্থায়ী মেডিক্যাল প্রধান নিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি ২০২৩ সালে প্রণয়ন করা ফিটনেস সংক্রান্ত কড়া নিয়মগুলিও এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি কার্যকর করা শুরু হয়নি। বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন সুন্দর, হর্ষিত রানা এবং নীতিশ রেড্ডির মতো প্রতিভাবান ক্রিকেটাররা বারবার ইনজুরির কবলে পড়ে মাঠের বাইরে চলে যাচ্ছেন। বিশেষ করে নীতিশ রেড্ডি নিজের বোলিংয়ের গতি রাতারাতি বাড়ানোর জন্য ইংল্যান্ডের বিশিষ্ট বোলিং কোচ স্টেফান জোনসের ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানে কঠোর অনুশীলন করছেন। তবে সূত্রের দাবি, রেড্ডি অতিরিক্ত গতি আনতে গিয়ে প্রতিবারই আরও জোরে বল করার চেষ্টা করছেন, যার ফলে তাঁর গুরুতর চোট পাওয়ার ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। হর্ষিত রানাকেও নিয়ে নানা মহলে জোরালো প্রশ্ন উঠেছে। সূত্রের দাবি, হাঁটুর মারাত্মক চোট সারিয়ে পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠার আগেই তাঁকে তড়িঘড়ি জাতীয় দলে ফিরিয়ে আনা হচ্ছিল। এখানেই শেষ নয়, চাঞ্চল্যকর তথ্যে এও দাবি করা হয়েছে যে, আসন্ন ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ চোটমুক্ত না হতেই ওয়াশিংটন সুন্দরকে তাড়াহুড়ো করে ডেকে নেওয়া হয়েছিল।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে যখন দেখা যাচ্ছে যে জাতীয় দলের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো বিদেশ সফর বা আন্তর্জাতিক সিরিজ না থাকলে বহু ক্রিকেটারের সঙ্গেই বিসিসিআইয়ের মূল মেডিক্যাল টিমের নিয়মিত কোনো যোগাযোগ থাকে না। বর্তমান আধুনিক ক্রিকেটে খুব কম সংখ্যক খেলোয়াড়ই তিনটি ফরম্যাট একসঙ্গে সমান তালে খেলেন। ফলে আন্তর্জাতিক সিরিজের দীর্ঘ ফাঁকে অনেকেই পর্যাপ্ত বিশ্রাম পান। কিন্তু সেই অবকাশকালীন সময়ে তাঁদের শারীরিক ফিটনেসের দেখভালের পূর্ণ দায়িত্ব একপ্রকার তাঁদের নিজেদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়। এই গাফিলতির ফলেই ভবিষ্যৎ তারকাদের ক্যারিয়ার বড় বিপদের মুখে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সমস্ত ত্রুটি শুধরে ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও স্বচ্ছ কমিউনিকেশন প্রোটোকল গড়ে তোলার জোরালো দাবি উঠেছে।