“মিড ডে মিলের ভাতে মরা বিছে মেশানো তরকারি!”-অসুস্থ ১০০-এর বেশি পড়ুয়া, এখন কী পরিস্থিতি?

স্কুলের মিড-ডে মিলের খাবার খেয়ে একশোরও বেশি পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বিহারে। সুপৌল জেলার ত্রিবেণীগঞ্জ থানার অন্তর্গত ওয়ার্ড নম্বর ১০-এর মিডল স্কুল মিরজাওয়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। খাবারে মৃত বিছে থাকার অভিযোগ ওঠায় স্থানীয় প্রশাসন ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল স্কুলে?
পড়ুয়াদের অভিযোগ অনুযায়ী, বুধবার স্কুলের মিড-ডে মিলে ভাত এবং আলু-ছোলার তরকারি পরিবেশন করা হয়েছিল। খাবার খাওয়ার সময় তরকারির মধ্যে একটি মৃত বিছে দেখতে পায় কয়েকজন ছাত্র। কিন্তু তার আগেই বহু পড়ুয়া সেই খাবার খেয়ে ফেলেছিল।
খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই খুদে পড়ুয়াদের মধ্যে একে একে গুরুতর শারীরিক অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়। তাদের গলায় জ্বালা, তীব্র পেট ব্যথা, বমি, মাথা ঘোরা এবং অস্বস্তির মতো উপসর্গ শুরু হয়। ভয়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং কেউ কেউ অজ্ঞানও হয়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছোট গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনে করে অসুস্থ পড়ুয়াদের ত্রিবেণীগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান।
চিকিৎসকদের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি
ত্রিবেণীগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. বি এন পাসওয়ান জানান, মিড-ডে মিল খাওয়ার পর পেট ব্যথা, বমি এবং আতঙ্কজনিত উপসর্গ নিয়ে শতাধিক পড়ুয়াকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, “সমস্ত পড়ুয়াকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তারা সকলে বিপদের বাইরে।”
তদন্তের নির্দেশ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই জেলাজুড়ে তীব্র হইচই শুরু হয়। মিড-ডে মিল প্রকল্পের জেলা প্রোজেক্ট ম্যানেজার পঙ্কজ কুমার সিং জানান, জেলা শিক্ষা আধিকারিকের মাধ্যমে বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং ইতিমধ্যেই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “মিড-ডে মিল খাওয়ার পর পড়ুয়ারা পেট ব্যথা ও বমির অভিযোগ তুলেছে। খাবারের মধ্যে বিছে পাওয়ার দাবিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কোনও রকম গাফিলতির প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”