“‘থ্রি ইডিয়টস’ তারকা এখন নীরব কেন? নিট আন্দোলনে আর মাধবনের ভূমিকা নিয়ে এফটিআইআই ক্যাম্পাসে তুমুল বিক্ষোভ”

দেশের রাজধানী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র আন্দোলনের উত্তাপ যখন তুঙ্গে, তখন একের পর এক সেলিব্রিটি ও শিল্পীরা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করলেও সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হেঁটেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা তথা এফটিআইআই (FTII)-এর চেয়ারম্যান আর মাধবন। শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা, সর্বভারতীয় নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি বলপ্রয়োগের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল ইস্যুতে তাঁর এই দীর্ঘ নীরবতাই এখন তাঁকে ঘিরে এক প্রবল ও তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। পুণে ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর এই রহস্যজনক উদাসীনতা নিয়ে প্রকাশ্যেই ফুঁসে উঠেছেন প্রতিষ্ঠানেরই ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা।

দেশজুড়ে চলমান এই ছাত্র বিক্ষোভের আবহে যখন শাবানা আজমি, জিনাত আমান, অপর্ণা সেন, অনুরাগ কাশ্যপ কিংবা জনপ্রিয় গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের মতো বিনোদন জগতের বহু স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব প্রকাশ্যেই শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত দাবির পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, ঠিক তখনই শীর্ষস্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে মাধবনের এই নিরবতা তীব্র প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়েছে। আন্দোলনরত পড়ুয়াদের সাফ অভিযোগ, এফটিআইআই-এর মতো দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় চলচ্চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার, উদ্বেগ ও শারীরিক নিরাপত্তার প্রশ্নে তাঁর অবস্থান অতি দ্রুত স্পষ্ট হওয়া একান্ত বাঞ্ছনীয় ছিল। সেই তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতেই সম্প্রতি এফটিআইআই ক্যাম্পাসের ভেতরে একদল ছাত্রছাত্রী জোরালো বিক্ষোভ দেখান। প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে অভিনব পন্থায় মাধবনের অফিস কক্ষের মূল দরজায় ‘NEET For Sale’ বা বিক্রির জন্য নিট—এমন স্লোগান লেখা একাধিক পোস্টার পর্যন্ত সাঁটিয়ে দেওয়া হয়। ক্যাম্পাসের দেওয়ালের সেই প্রতিবাদের ছবি ও ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়তেই তা জাতীয় স্তরে এক নতুন রাজনৈতিক ও শৈল্পিক বিতর্কের জন্ম দেয়।

এই বিতর্কের ঢেউ কেবল পুণের পেমরা ক্যাম্পাসের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে গোটা সাইবার দুনিয়ায়। সোশ্যাল মিডিয়ার পাতায় পাতায় এখন অভিনেতা আর মাধবনকে ঘিরে চলছে তীব্র সমালোচনার ঝড়। বহু নেটিজেন ও চলচ্চিত্রপ্রেমী অত্যন্ত আক্ষেপের সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, ক্যারিয়ারের গোড়ার দিকে কিংবা তাঁর অভিনীত ‘রং দে বাসন্তী’ বা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর মতো কালজয়ী সিনেমাগুলিতে তিনি এমন কিছু আইকনিক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন যা সরাসরি দেশের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন, গুণগত শিক্ষা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের কথাই জোরালোভাবে তুলে ধরেছিল। রিল লাইফের সেই প্রতিবাদী ও তারুণ্যদীপ্ত চরিত্রগুলির সঙ্গে বাস্তবের এই চরম নীরবতার আকাশ-পাতাল ফার্ক দেখেই নেটপাড়ার একাংশ অত্যন্ত ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

সমালোচনার এই ঢেউয়ে শামিল হয়েছেন বিনোদন জগতের অনেকেও। এই সংক্রান্ত একাধিক সমালোচনামূলক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে অভিনেতা অভয় ভার্মা এবং তরুণ অভিনেতা সোহম মজুমদারের প্রতিক্রিয়া রীতিমতো নজর কেড়েছে। বিশেষ করে সোহম মন্তব্য করে বসেছেন যে, অভিনেতা মাধবনের কাছ থেকে তিনি ঠিক এই ধরনের আচরণই আশা করেছিলেন। সব মিলিয়ে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই গণআন্দোলন যখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে, তখন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে থেকে এহেন নীরবতা বজায় রাখা কতটা নৈতিক ও গ্রহণযোগ্য—সেই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ। যদিও এই গোটা বিতর্ক এবং ক্যাম্পাসের বিক্ষোভ নিয়ে এখনও পর্যন্ত অভিনেতা আর মাধবন বা তাঁর অফিসিয়াল টিমের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা সাফাই দেওয়া হয়নি। তবে তাঁর এই দীর্ঘ ও অনমনীয় নীরবতা যে বিনোদন জগত ও ছাত্র সমাজের অন্দরে অসন্তোষের আগুন আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।