“এক কড়াই তরকারিতেই ৩ বেলার ঝুটঝামেলা শেষ! সময়, গ্যাস আর টাকা বাঁচানোর দুর্দান্ত সিক্রেট”

চাকরি, বাচ্চা এবং সংসার সামলে প্রতিদিন তিনবেলা আলাদা করে রান্না করা যেকোনো গৃহিণীর কাছেই এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। তার ওপর প্রতিদিন বাজারে গিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার খরচও পকেটে টান ফেলে। এই সমস্ত ঝুটঝামেলা থেকে মুক্তি পেতে এবং সময়, গ্যাস ও অর্থ সাশ্রয় করতে এক অভিনব ও চমৎকার উপায় সামনে এসেছে। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে এক কড়াই বেস তরকারি বা গ্রেভি তৈরি করে নিলেই নিমেষে সমাধান হয়ে যেতে পারে সারাদিনের রান্নার চিন্তা। সঠিক পদ্ধতিতে প্রেজেন্টেশন এবং সামান্য মশলা বদল করলেই একই খাবার তিনবেলা একেবারে নতুন স্বাদে উপভোগ করা সম্ভব।
বেস তরকারি হিসেবে কী এবং কীভাবে বানাবেন:
শুরুতে আলু-ফুলকপি, মিক্স ভেজ, ছানা মশলা বা পনিরের মতো যেকোনো মাখা মাখা গ্রেভির তরকারি বেছে নিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে তরকারির ঝাল ও নুন মাঝারি ধরনের হয়, যাতে পরবর্তী সময়ে স্বাদ বদলাতে সুবিধা হয়। ছুটির দিনে বা সকালে বড় এক কড়াই ভর্তি করে এই তরকারি বানিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করে নিতে পারেন।
সকালের প্রাতরাশ: তরকারির পরোটা রোল
কীভাবে বানাবেন: রাতের বা আগের বানিয়ে রাখা বেস তরকারি থেকে আলু, ফুলকপি বা ছানা ভালো করে চটকে নিন। এরপর এর সঙ্গে কুচানো পেঁয়াজ, ধনেপাতা এবং সামান্য চাট মশলা মিশিয়ে নিন। আটা দিয়ে পাতলা রুটি বেলে তাওয়ায় হালকা সেঁকে তার মধ্যে এই সুস্বাদু পুর ভরে রোল তৈরি করে নিন। সঙ্গে চা বা এক বাটি দই রেখে দিতে পারেন। এটি তৈরি করতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগে এবং অফিস বা স্কুলের টিফিনের জন্য এটি একদম পারফেক্ট।
দুপুরের ভোজন: তরকারির ঝোল দিয়ে গরম ভাত ও ফ্রাই
কীভাবে বানাবেন: বেস তরকারির সঙ্গে সামান্য জল এবং ফুটন্ত গরম মশলা যোগ করে একটি পাতলা সুস্বাদু ঝোল বানিয়ে নিন। এটি গরম ভাতের সঙ্গে অত্যন্ত তৃপ্তি করে খাওয়া যায়। এর সঙ্গে সাইড ডিস্ক হিসেবে আলুর চিপস, মুচমুচে পাপড় বা ডিম ভুজিয়া ভেজে নিতে পারেন। একই তরকারি ঝোলের রূপ নিলে তার স্বাদ একদম বদলে যায়। পরিবেশনের সময় ওপরে একটু ধনেপাতা এবং সামান্য ঘি ছড়িয়ে দিলে স্বাদ দ্বিগুণ হয়ে যায়।
রাতের খাবার: তরকারির ফ্র্যাঙ্কি বা কাঠি রোল
কীভাবে বানাবেন: তরকারি থেকে প্রথমে গ্রেভিটা ভালো করে ছেঁকে আলাদা করে নিন। এরপর কড়াইতে তরকারির ঘন অংশটা একটু শুকিয়ে নিন। ময়দার পাতলা রুটি বা বাজারে কিনতে পাওয়া টর্টিলা তাওয়ায় সেঁকে নিন। তার মধ্যে শুকনো তরকারি, পেঁয়াজ ও কাঁচা লঙ্কা কুচি, টমেটো সস এবং একটু মেয়োনিজ মিশিয়ে রোল বানিয়ে নিন। মাত্র ১৫ মিনিটে তৈরি এই খাবার বাচ্চারাও অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে চেটেপুটে খাবে।
এছাড়াও রয়েছে আরও দুটি চমৎকার বোনাস আইডিয়া। প্রথমটি হলো তরকারির কাটলেট, যেখানে তরকারির সঙ্গে ব্রেডক্রাম্ব ও বেসন মিশিয়ে টিক্কির আকারে ভেজে নেওয়া যায়। দ্বিতীয়টি হলো তরকারির পাস্তা, যেখানে সেদ্ধ পাস্তার সঙ্গে এই সুস্বাদু তরকারির গ্রেভি মিশিয়ে ওপর থেকে চিজ গ্রেট করে দিলেই তৈরি হয়ে যাবে দারুণ এক ইতালিয়ান ডিশ। সুতরাং, একটিমাত্র তরকারি দিয়ে সারাদিনের তিনবেলা খাবার মানেই কোনো বোরিং ব্যাপার নয়, বরং একটু কায়দা জানলে রান্নাঘরের অর্ধেক সময় ও পরিশ্রম দুই-ই বাঁচবে।