আজও অজানা মৃত্যুর কারণ! পাঁচ মাস পর ভাই রাহুল অরুণোদয়ের ছবি মুক্তি নিয়ে মুখ খুললেন দাদা অনির্বাণ

ভাই কোথাও নেই, কিন্তু তাঁর একের পর এক ছবি আজ প্রেক্ষাগৃহের পর্দা জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বেশ কিছু দিন নিজের শহর কোলকাতায় কাটিয়ে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাদা অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে ফিরে গিয়েছেন তাঁর সুদূর কর্মস্থল আয়ারল্যান্ডে। বিদেশের মাটিতে থেকেও তিনি দেশের প্রতিটি খবর গভীর মনোযোগের সঙ্গে রাখেন। তিনি ভালোভাবেই জানেন যে, আগামী ২৪ জুলাই মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর ভাই রাহুলের প্রতীক্ষিত দুটি ছবি—‘ছবিওয়ালা’ এবং ‘কাতুকুতু বুড়ো’। ভাইয়ের এই ব্যাক-টু-ব্যাক ছবি মুক্তি কি তবে নতুন করে রাহুলের না থাকাটা মনে করিয়ে দিচ্ছে? নতুন করে কি প্রিয়জন হারানোর সেই গভীর ব্যথা হৃদয়ে জেগে উঠছে? সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এমনই আবেগঘন নানা প্রশ্নের উত্তর দিলেন অনির্বাণ।
সুদূর আয়ারল্যান্ড থেকে ফোনের ওপারে অনির্বাণের কণ্ঠস্বর ছিল অত্যন্ত মৃদু ও ভারাক্রান্ত। তিনি এক নিঃশ্বাসে বলেন, “ভাই নেই, ওকে চিরতরে হারানোর ব্যথা কি কখনও যাওয়ার? এই শূন্যতা ও অনুভূতি আজ আমার জীবনের নিত্যদিনের সঙ্গী। কাজের ফাঁকে বা কাজের বাইরে সারাক্ষণ আমি শুধু ওকে মনে করি। ভাইয়ের এই চরম অভাব এ জন্মে কোনোদিনও পূরণ হওয়ার নয়। তাই নতুন করে নতুন করে ব্যথা জাগানোর আলাদা কোনো প্রশ্নই ওঠে না।” তবে তিনি এ-ও জানান যে, তিনি যদি এই মুহূর্তে কলকাতায় থাকতে পারতেন, তবে নিশ্চিতভাবেই রাহুলের ছবির বিশেষ প্রদর্শনীতে সশরীরে হাজির হতেন। পাশাপাশি তিনি জানান, উজান গঙ্গোপাধ্যায় পরিচালিত ‘কাতুকুতু বুড়ো’ ছবিটি তাঁর এখনও দেখা হয়ে ওঠেনি, তবে সিনেমাটি মুক্তির পর তিনি বিদেশ থেকেই রাহুলের অসাধারণ অভিনয় দেখার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন।
রাহুলের ছবিমুক্তির এই বিশেষ সূত্র ধরেই অনির্বাণের মনে এক গভীর উপলব্ধি তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, জীবনের একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে রাহুলের নতুন ছবিমুক্তি ফুরিয়ে যাবে ঠিকই, কিন্তু ভাই আজীবন তাঁর মনের মণিকোঠায় সজীব হয়ে বেঁচে থাকবে। দেখতে দেখতে রাহুলের প্রয়াণের প্রায় পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত তাঁর মৃত্যুর আসল কারণ রহস্যাবৃত ও অজানা রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, অনির্বাণ কি পারিবারিক দিক থেকে রাজ্য সরকার বা প্রশাসনিক মহলে কোনো বিশেষ তদ্বির করার কথা ভাবছেন? এই প্রশ্ন শুনে কিছুটা সময় চুপ থাকেন অনির্বাণ। এরপর এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি অত্যন্ত সংযত কণ্ঠে বলেন, “আমাদের দেশের এবং এই রাজ্যের আইন ও বিচারব্যবস্থার উপরে আমার সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আপাতত এই বিষয়ে এর বেশি আর কিছু বলার নেই।”