নিট বাতিলের ক্ষোভে যখন রাস্তায় হাজারো পড়ুয়া, তখন ঘরে বসে এই এক সিদ্ধান্তে বাজিমাত পাংশুলের!

দেশজুড়ে নিট-ইউজি (NEET UG) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে যখন তীব্র বিতর্ক, রাজনৈতিক সংঘাত এবং হাজার হাজার পড়ুয়ার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ চলছে, তখন সেই উত্তেজনার আঁচ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রেখেছিলেন হরিয়ানার পড়ুয়া পাংশুল বনশাল। চারপাশের এই অস্থির আবহাওয়ার মাঝেও নিজের লক্ষ্যে অবিচল থেকে তিনি ঘরে বসেই পড়াশোনায় মন দেন। আর তাঁর সেই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফল আজ সবার সামনে। নিট পরীক্ষায় ৭১৫ নম্বর পেয়ে ৯৯.৯৯৯৯ পার্সেন্টাইল অর্জন করেছেন তিনি, অধিকার করেছেন সর্বভারতীয় মেধাতালিকায় দ্বিতীয় স্থান।

এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভাবনীয় সাফল্যের পেছনের গল্প তুলে ধরেন পাংশুল। তিনি জানান, পরীক্ষা বাতিলের খবর প্রথমদিকে তাঁকে হতাশ করেছিল। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের পর এমন সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই যে কারও মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু পাংশুল সেই হতাশা আঁকড়ে বসে থাকেননি। দ্রুতই তিনি পরিস্থিতিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করেন। তিনি বুঝতে পারেন, রাস্তায় নেমে আন্দোলনে যোগ দিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত কোনও লাভ হবে না, বরং সেই সময়টা পড়াশোনায় কাজে লাগালে প্রস্তুতি আরও মজবুত হবে। এই বাড়তি সময়টুকুর সদ্ব্যবহার করেই তিনি আগের চেয়েও ভালো নম্বর নিশ্চিত করেছেন।

যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশ্নফাঁস ও দুর্নীতির অভিযোগে পরীক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমেছেন এবং বিরোধী দলগুলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সরব, সেখানে পাংশুলের এই ব্যতিক্রমী চিন্তাধারা বিশেষ নজর কেড়েছে। এই অভাবনীয় সাফল্যের পর গত রবিবার পাংশুলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পরে সমাজমাধ্যমে পাংশুলকে অভিনন্দন জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী লেখেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের অধ্যবসায় এবং স্বপ্নপূরণের অদম্য মানসিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই তরুণ। তিনি আগামী দিনে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবায় বড় অবদান রাখবেন বলেও আশাপ্রকাশ করেন মন্ত্রী।

উল্লেখ্য, প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পর ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার সেই পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। দেশের ৫৫১টি ও বিদেশের ১৪টি শহর মিলিয়ে মোট ৫ হাজার ৪৪০টি কেন্দ্রে প্রায় ২০ লক্ষ পরীক্ষার্থী অংশ নেন, যার মধ্যে ১১ লক্ষ ২১ হাজার জন যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এ বছরের যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে ৫৮ শতাংশের বেশি মহিলা। ১৩৮ জন পরীক্ষার্থী ৭২০-র মধ্যে ৬৯০-এর বেশি নম্বর পেয়েছেন, যার মধ্যে ৯৩ শতাংশই প্রথমবার পরীক্ষা দিয়ে এই বিরল কৃতিত্ব অর্জন করেছেন।