তলোয়ার হাতে নিহঙ্গ যোদ্ধারা! ছাত্র আন্দোলনের নামে দিল্লির রাস্তায় এ কোন ভয়ংকর সহিংসতার ছবি?

দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান তথাকথিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) বা ছাত্র প্রতিবাদের প্রেক্ষাপট এক অভাবনীয় ও অত্যন্ত উদ্বেগজনক মোড় নিয়েছে। এতদিন যে আন্দোলনকে দেশজুড়ে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছাত্র প্রতিবাদ বলে জোরালো প্রচার চালানো হচ্ছিল, দিল্লির রাজপথে হঠাৎ তাদেরই সমর্থনে তলোয়ার হাতে সশস্ত্র নিহঙ্গ শিখ যোদ্ধাদের উপস্থিতি পুরো পরিস্থিতিকে এক লহমায় পাল্টে দিয়েছে। ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ওই তথাকথিত আন্দোলনকারীদের পাশে বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়ে নিহঙ্গ যোদ্ধারা প্রকাশ্য রাজপথে তলোয়ার উঁচিয়ে পুলিশ এবং র্যাফ (RAF) জওয়ানদের উদ্দেশে চরম আক্রমণাত্মক ও উসকানিমূলক হুমকি দিচ্ছেন। তাঁদের বলতে শোনা যাচ্ছে, “সবাইকে পিটিয়ে কালো করে দেব!” এই চাঞ্চল্যকর ও ভয়ঙ্কর দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের মনে এক বিরাট প্রশ্ন দানা বাঁধতে শুরু করেছে—এটি কি আদতে কোনো সাধারণ ছাত্র আন্দোলন, নাকি এর নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর ও বিপজ্জনক এজেন্ডা কাজ করছে?
উল্লেখ্য, সিজেপি বা এই ছাত্র বিক্ষোভের সূচনা মূলত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা জটিল সমস্যা, নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং লাগাতার ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব দূর করার মতো অত্যন্ত যৌক্তিক দাবিদাওয়াকে সামনে রেখেই শুরু হয়েছিল। আয়োজকদের দাবি ছিল, দেশের বঞ্চিত ও ক্ষুব্ধ ছাত্রযুবকরাই এই আন্দোলনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে জড়ো হয়েছেন। কিন্তু বর্তমান বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ আলাদা। সেই জনসমাবেশে যেভাবে প্রাচীন ও মারাত্মক অস্ত্র হাতে নিহঙ্গদের প্রবেশ ঘটেছে, তা গোটা আন্দোলনের চরিত্রকে এক পলকে বদলে দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের মনে তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে যে, এই নিহঙ্গ শিখরা কি আদৌ কোনো নিইট পরীক্ষার্থী বা কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র? তাঁদের শারীরিক বয়স, অদ্ভুত পোশাক-আশাক এবং মারমুখী আচরণ দেখে দূর থেকে তা কোনোভাবেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় না। বরং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের জোরালো অভিমত, কোনো অদৃশ্য ও সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি কিংবা স্বার্থান্বেষী মহল এই ছাত্র আন্দোলনকে নিজেদের সংকীর্ণ স্বার্থ ও রাজনৈতিক এজেন্ডা চরিতার্থ করার জন্য নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করছে।
দেশের রাজনৈতিক মহলের বড় একটা অংশের মতে, গণতান্ত্রিক দেশে প্রতিবাদের অধিকার সবারই রয়েছে, কিন্তু প্রতিবাদের নামে রাজপথে তলোয়ার বা অস্ত্র হাতে নেমে পড়া কোনোভাবেই সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতন্ত্রের লক্ষণ হতে পারে না। ইতিমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটাতে হয়েছে। কিন্তু সশস্ত্র নিহঙ্গদের সরাসরি উপস্থিতি এই সংকটকে আরও বহুগুণ জটিল করে তুলেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের ধৃত ও হিংসাত্মক ঘটনাগুলোই আন্দোলনের আসল এবং কুৎসিত মুখটি সবার সামনে উন্মোচন করে দিচ্ছে। যে জনআন্দোলন শুরু হয়েছিল নিছক শিক্ষার মৌলিক দাবি ও অধিকারের কথা বলে, তা আজ চরম হিংসাত্মক ও বিশৃঙ্খল রূপ ধারণ করছে। একদিকে প্রকাশ্যে হত্যার ও মারধরের হুমকি, অন্যদিকে হাতে ধারালো তলোয়ার নিয়ে প্রকাশ্য রাস্তায় নেমে পড়া—এগুলি কোনোভাবেই কোনো শান্তিকামী ছাত্র আন্দোলনের অংশ হতে পারে না। এদিকে সিজেপি নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত এই নিহঙ্গদের আকস্মিক উপস্থিতি বা তাঁদের হুমকি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনো স্পষ্ট ও সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেয়নি। তারা নিজেদের মুখে শান্তিপ্রিয় বলে যতই দাবি করে চলুক না কেন, ক্যামেরার সামনে ধরা পড়া ভিডিও ফুটেজ এবং নগ্ন বাস্তবচিত্র সেই সমস্ত দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অসত্য প্রমাণ করে দিচ্ছে।