রোজকার একঘেয়ে ডাল খেয়ে বিরক্ত? মাত্র ২০ মিনিটে বানান এই জিভে জল আনা ‘চিংড়ি ডাল’!

রোজকার একঘেয়ে ডাল খেয়ে যদি মুখ পাল্টাতে চান, তবে এই সুস্বাদু ‘চিংড়ি ডাল’ আপনার রান্নার মেনুতে এক দুর্দান্ত পরিবর্তন আনতে পারে। বাঙালি রান্নায় ডাল আর চিংড়ির জুটি মানেই যেন এক অন্যরকম স্বর্গীয় স্বাদ। অল্প কিছু উপকরণ, অত্যন্ত কম সময় এবং দুর্দান্ত স্বাদ—এই তিনটির নিখুঁত সংমিশ্রণ মিলবে এই বিশেষ রেসিপিতে। অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে ফিরে কিংবা ছুটির দিনে ব্যস্ততার মাঝেও মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই এটি তৈরি করে ফেলা সম্ভব। গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সাথে এই পদ থাকলে পাতে আর অন্য কিছুর প্রয়োজনই পড়ে না। চলুন তবে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক এই লোভনীয় পদটি বানানোর সহজ প্রস্তুত প্রণালী।

প্রয়োজনীয় উপকরণ: এই নির্দিষ্ট পরিমাণে রান্না করলে ৩ থেকে ৪ জনের ভালোভাবে হয়ে যাবে। প্রধান উপকরণের মধ্যে লাগছে এক বাটি মুসুর ডাল, ১০ থেকে ১২টি মাঝারি সাইজের খোসা ছাড়ানো চিংড়ি মাছ, ১টি বড় সাইজের পেঁয়াজ কুচি, ১টি মাঝারি টমেটো কুচি, ১ চা চামচ আদা-রসুন বাটা, ২ থেকে ৩টি চেরা কাঁচা লঙ্কা, ১/২ চা চামচ হলুদ গুঁড়ো, ১/২ চা চামচ জিরে গুঁড়ো, ১/২ চা চামচ ধনে গুঁড়ো, স্বাদমতো নুন, এক চিমটি চিনি, এবং রান্নার জন্য ৩ টেবিল চামচ সর্ষের তেল। এছাড়া ফোড়নের জন্য প্রয়োজন হবে ১টি তেজপাতা, ১টি শুকনো লঙ্কা এবং ১/২ চা চামচ পাঁচফোড়ন।

তৈরি করার পদ্ধতি: প্রথমেই মুসুর ডাল ভালো করে পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর প্রেশার কুকারে ধুয়ে রাখা ডাল, ২ কাপ জল, ১/৪ চা চামচ হলুদ এবং সামান্য নুন দিয়ে দুটো সিটি দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে ডাল যেন একদম গলে না যায়, আবার আস্তও না থাকে। সেদ্ধ হয়ে গেলে খুন্তি দিয়ে সামান্য একটু ঘেঁটে নিতে হবে। অন্যদিকে, চিংড়ি মাছে সামান্য নুন ও হলুদ মাখিয়ে ৫ মিনিট রেখে দিতে হবে। কড়াইতে ১ টেবিল চামচ সর্ষের তেল গরম করে চিংড়িগুলো হালকা লালচে করে ভেজে তুলে রাখতে হবে, কারণ বেশি ভাজলে চিংড়ি শক্ত হয়ে যেতে পারে।

এরপর ওই কড়াইতে বাকি সর্ষের তেল দিয়ে গরম করতে হবে। তেল গরম হলে তেজপাতা, শুকনো লঙ্কা ও পাঁচফোড়ন ফোড়ন দিতে হবে। সুন্দর সুগন্ধ বেরোলে তাতে পেঁয়াজ কুচি দিয়ে সোনালি করে ভাজতে হবে। এবার আদা-রসুন বাটা দিয়ে কাঁচা গন্ধ যাওয়া পর্যন্ত ভালো করে কষাতে হবে। তারপর টমেটো কুচি, বাকি হলুদ গুঁড়ো, জিরে গুঁড়ো, ধনে গুঁড়ো ও নুন দিয়ে মশলা ততক্ষণ কষাতে হবে যতক্ষণ না মশলা থেকে তেল ছাড়তে শুরু করে। মশলা কষানো হয়ে গেলে সেদ্ধ করা ডাল তার মধ্যে ঢেলে দিতে হবে এবং প্রয়োজন মতো জল দিয়ে ফোটাতে হবে। ডাল ভালোভাবে ফুটে উঠলে ভেজে রাখা চিংড়ি মাছ ও চেরা কাঁচা লঙ্কা দিয়ে দিতে হবে। স্বাদ ভারসাম্য বজায় রাখতে এক চিমটি চিনি দিয়ে আরও ২ থেকে ৩ মিনিট ফুটিয়ে গ্যাস বন্ধ করে দিতে হবে। রান্নার শেষ পর্যায়ে ওপর থেকে কুচানো ধনেপাতা ছড়িয়ে দিতে হবে এবং নামানোর আগে সামান্য ঘি ও গরম মশলা গুঁড়ো ছড়িয়ে দিলে এর স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যাবে। গরম গরম ভাতের সাথে এই চিংড়ি ডাল পরিবেশন করুন, যা আপনার দুপুরের বা রাতের খাবারকে একদম জমিয়ে দেবে।