নীট প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডে উত্তাল সংসদ! কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ এবং বিক্ষোভের জেরে নয়া রাজনৈতিক মোড়!

দেশজুড়ে আলোচিত নীট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং দুর্নীতি মামলাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে সংসদ ভবন চত্বর থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলি এই ইস্যুতে কেন্দ্র সরকারকে ক্রমাগত কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে এবং জোরালো আক্রমণ শানিয়ে চলেছে। আজ সংসদ চত্বরেও বিরোধীদের পক্ষ থেকে তীব্র বিক্ষোভ দেখানো হচ্ছে। এই সামগ্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেই সরকারি সূত্রে জোরালোভাবে জানানো হয়েছে যে, বিরোধীদের সমস্ত আক্রমণ ও কঠিন প্রশ্নের উপযুক্ত ও তথ্যভিত্তিক জবাব দিতে কেন্দ্র এবার পুরোপুরি প্রস্তুত। নীট ইস্যুতে প্রতিবাদী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আজ বুধবার সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ জীতেন্দ্র সিং আজ সিজেপি (CJP)-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসবেন। এর পাশাপাশি, গতকাল গভীর রাতে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে রাজনৈতিক মহলে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা।

বিরোধীদের প্রধান অভিযোগ ছিল যে, নীট প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো এত বড় ঘটনার পর কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণ উদাসীন ছিল এবং এর কোনো নৈতিক দায়িত্ব নিতে চায়নি। তবে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এই সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করা হয়েছে। কেন্দ্রের সাফাই, প্রথম দিন থেকেই এই ঘটনার গভীরে গিয়ে তারা অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর সামনে আসার পরেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান নিজের কাঁধে এর নৈতিক দায় নিয়েছিলেন এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে একাধিক কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। স্বনামধন্য সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-র সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, বিরোধীদের তরফ থেকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার যে দাবি তোলা হচ্ছে, তা পুরোপুরি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন। প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরকারের কাছে মোট পাঁচটি প্রধান দাবি পেশ করেছিলেন, যার তালিকার শীর্ষেই ছিল ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি।

কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জোরালো যুক্তি দিয়ে বলা হচ্ছে যে, নীট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা সামনে আসতেই তাৎক্ষণিকভাবে সিবিআই (CBI) তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল এবং এই ঘটনায় জড়িত থাকার অপরাধে ইতিমধ্যেই ১৩ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দোষীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই ধরনের প্রশ্নপত্র ফাঁসকে জঘন্যতম ‘ঘোর পাপ’ বলে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলিকে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে এবং কোনো ছাত্রছাত্রীর সঙ্গেই যাতে কোনো ধরনের অবিচার বা অন্যায় না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারি সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিরোধীদের সমস্ত দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে সরকার এই সংবেদনশীল ইস্যু নিয়ে সংসদে বিস্তারিত ও খোলামেলা আলোচনা করতেও সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। উল্লেখ্য, গতকালই নীট কাণ্ডের প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি উত্তপ্ত করে তুলেছে।