‘হাত ধরে’ বৈঠক! যন্তর মন্তরে ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়েই নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দেখা করলেন শারদ ও সুপ্রিয়া!

রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের ওপর পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জ এবং রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার সংসদ ভবনে এক চাঞ্চল্যকর দৃশ্যের অবতারণা হলো। প্রতিবাদী ছাত্রদের আন্দোলন সরাসরি সমর্থন করার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি বা এনসিপি (শারদ পাওয়ার গোষ্ঠী) প্রধান শারদ পাওয়ার এবং তাঁর সাংসদ কন্যা সুপ্রিয়া সুলে সরাসরি দেখা করলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। সংসদের চলতি বর্ষাকালীন অধিবেশন চলাকালীন অনুষ্ঠিত এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকটি ঘিরে এই মুহূর্তে দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন ও জল্পনা শুরু হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অত্যন্ত উষ্ণতার সঙ্গে বর্ষীয়ান নেতা শারদ পাওয়ারের হাত ধরে থাকতে দেখা যায়, যা মুহূর্তেই জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
গত মঙ্গলবারই শারদ পাওয়ার ও সুপ্রিয়া সুলে দিল্লির যন্তর মন্তরে গিয়ে সম্প্রতি দেশজুড়ে আলোচিত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ও আন্দোলনরত বিক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা করেছিলেন। তাঁরা কেবল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশই করেননি, বরং শান্তিপূর্ণ ছাত্র বিক্ষোভের ওপর পুলিশি লাঠিচার্জ এবং দমনপীড়নের তীব্র ভাষায় নিন্দা করেছিলেন। ঠিক তার পরের দিনই বিরোধী শিবিরের দুই হেভিওয়েট নেতার এভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। যদিও এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল কিংবা ঠিক কী বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং পাওয়ার জুটির মধ্যে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে বা সংশ্লিষ্ট নেতাদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎকে নিছক সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ হিসেবে দেখতে নারাজ ওয়াকিবহাল মহল। সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের ঠিক মাঝপথে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা মহারাষ্ট্রের রাজ্য রাজনীতি থেকে শুরু করে জাতীয় স্তরের সমীকরণগুলোতেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। একদিকে যখন বিরোধীরা বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালাচ্ছে, ঠিক সেই সময় শারদ পাওয়ারের এই ধরনের আকস্মিক পদক্ষেপ নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সব মিলিয়ে, ছাত্রদের আন্দোলনের জেরে সৃষ্ট উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে এই মোদী-পাওয়ার বৈঠক জাতীয় রাজনীতির ময়দানে নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।