এলআইসি ও ইপিএফও-এর হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বড় ঘোষণা! সরকারের সাফ সাফ বার্তা জানাল অর্থ মন্ত্রক!

সংসদের চলতি অধিবেশনে সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এলআইসি)-র কাছে জমা থাকা দাবিহীন টাকা এবং এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন (ইপিএফও)-র নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলিতে পড়ে থাকা বিপুল পরিমাণ অর্থ বর্তমান আইনি ব্যবস্থা ও নিয়ম বহির্ভূত অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করার সরকারের বিন্দুমাত্র কোনো পরিকল্পনা নেই। বুধবার সংসদ ভবনে উত্থাপিত এক সরকারি বিবৃতিতে অর্থ মন্ত্রক দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে যে, সরকারের একমাত্র এবং প্রধান লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের এই কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদে এবং দ্রুত সঠিক প্রাপকদের হাতে ফেরত পৌঁছে দেওয়া, কোনো অবস্থাতেই এই তহবিল অন্য কোনো সরকারি খাতে ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
অর্থ মন্ত্রকের পেশ করা সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১শে মার্চ পর্যন্ত হিসাব কষে দেখা গেছে যে, এলআইসি-র কাছে প্রায় ৭,৩১৮.৫ কোটি টাকার দাবিহীন ব্যালেন্স গচ্ছিত রয়েছে। পাশাপাশি, ইপিএফও-র বিভিন্ন নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টগুলিতে প্রায় ৯,৩৩০.৫৬ কোটি টাকা অলস অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সাধারণত যে সমস্ত প্রভিডেন্ট ফান্ড অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো নতুন চাঁদা জমা হয় না এবং অ্যাকাউন্ট হোল্ডারদের পক্ষ থেকে কোনো রকম লেনদেন বা পরিচালনা করা হয় না, সেই সমস্ত অ্যাকাউন্টগুলিকেই নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা বিভিন্ন মহলে নানা রকম জল্পনা রটেছিল যে, সরকার হয়তো এই বিপুল পরিমাণ দাবিহীন তহবিল নিজেদের অন্য কোনো প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারে। তবে সংসদের উচ্চ ও নিম্নকক্ষে এই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার মাধ্যমে সরকার সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে এবং সাফ জানিয়েছে যে আইনি কাঠামোর কোনো পরিবর্তন করা হচ্ছে না।
সাধারণ মানুষের কাছে এই সমস্ত আটকে থাকা টাকা নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এলআইসি এবং ইপিএফও উভয়েই বিভিন্ন আধুনিক ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্য নিচ্ছে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের খুঁজে বের করতে এবং তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে অভিনব প্রচার অভিযান চালানো হচ্ছে, যাতে দাবি প্রক্রিয়াকরণ প্রক্রিয়া আরও বেশি সুবিন্যস্ত ও সহজ হয়। বিশেষ করে ইপিএফও-র পক্ষ থেকে ছোট আকারের আধার-যাচাইকৃত অ্যাকাউন্টগুলির ক্ষেত্রে দাবির স্বয়ংক্রিয় নিষ্পত্তির (অটো-সেটেলমেন্ট) এক যুগান্তকারী ব্যবস্থা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে সেই সমস্ত সাধারণ কর্মচারী ও শ্রমিকরা দারুণভাবে উপকৃত ও স্বস্তি পাচ্ছেন, যাদের অ্যাকাউন্টে দীর্ঘদিন ধরে অল্প কিছু টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। সরকারের এই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপে স্পষ্ট যে, জনগণের আমানত সুরক্ষিত রাখাই তাদের সর্বকালের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।