মোদীর বাসভবনের সামনে তুলকালাম! নিট প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে রাহুলকে ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ বানানোর তীব্র কটাক্ষ ধর্মেন্দ্র প্রধানের!

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষাব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। মঙ্গলবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এই বিক্ষোভে অংশ নেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভঢরা এবং দলের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় নেতা-কর্মীরা। নিট কেলেঙ্কারির পাশাপাশি সাম্প্রতিক ‘সংসদ চলো’ মিছিলে ছাত্রদের ওপর পুলিশের কথিত নির্মমতার প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। সন্ধ্যার দিকে পুলিশ এই বিক্ষোভ হটিয়ে দেয় এবং রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে। যদিও পরে রাত ন’টার দিকে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। এই রাজনৈতিক কোলাহলের মধ্যেই কংগ্রেস ও রাহুল গান্ধীকে তীব্র আক্রমণ করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান অভিযোগ করেছেন যে, বিরোধী দলগুলি ছাত্রদের শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে।
কংগ্রেসের এই বিক্ষোভের তীব্র সমালোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (X) লেখেন যে, চলমান বাদল অধিবেশনে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিসন্ধি থেকে কংগ্রেস লজ্জাজনকভাবে দেশের তরুণ সমাজকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে এই ধরনের বিক্ষোভ কেবল নিরাপত্তা বিধির স্পষ্ট লঙ্ঘনই নয়, বরং এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাফেরায় চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয়েছে যে, নিট এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রতিটি বিষয়ে সংসদে বিস্তারিত ও উন্মুক্ত আলোচনার জন্য কেন্দ্র পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও কংগ্রেস গণতান্ত্রিক রীতিনীতিকে বিসর্জন দিয়ে রাস্তায় নেমে রাজনৈতিক নাটক পরিবেশন করছে বলে তাঁর অভিযোগ।
এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং আরও একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালীন রাহুল গান্ধী ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে জানিয়েছিলেন যে, প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে যদি সংসদে আলোচনা করার সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তাঁরা এই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেবেন। সরকারের তরফ থেকে সেই প্রস্তাবে তৎক্ষণাৎ সম্মতি জানানো সত্ত্বেও কংগ্রেস নেতৃত্ব পরে নতুন নতুন শর্ত ও দাবি সামনে আনতে শুরু করে, যা তাদের সদিচ্ছার অভাবকে স্পষ্ট করে তোলে।
শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আরও জোরালোভাবে বলেন যে, ভারতের মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীরা রাজনৈতিক প্রচারের পুতুল হয়ে ওঠার চেয়ে অনেক বেশি কিছু পাওয়ার যোগ্য। দেশের তরুণ প্রজন্মের দরকার কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা হট্টগোল নয়, বরং একটি নিরাপদ ও সুনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। স্লোগানসর্বস্ব রাজনীতির বদলে তাদের প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট সমাধান এবং দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিবর্তে পূর্ণ প্রশাসনিক জবাবদিহি। নিটসহ গোটা দেশের পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা সম্পূর্ণভাবে বজায় রাখতে এবং ছাত্র-যুব সমাজের সমস্ত গভীর উদ্বেগ নিরসন করতে কেন্দ্রীয় সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আইনগত পদক্ষেপ নিতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুত রয়েছে বলেও এ দিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।