সাতসকালে ভয়াবহ দুর্ঘটনা! লরির ধাক্কায় অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন মন্ত্রী পত্নী মালতি টুডু

সাতসকালে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার মুখে পড়লেন রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডুর স্ত্রী মালতি টুডু। তবে চালকের অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধি ও চরম তৎপরতার কারণে ভাগ্যের জোরে বড় ধরনের প্রাণহানির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি ও তাঁর গাড়ির চালক। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, বুধবার সকালে একটি চার চাকা গাড়িতে চেপে তিনি বাঁকুড়ার নিজ বাসভবনে ফিরছিলেন। সেই যাত্রাপথেই পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি থানার অন্তর্গত সারুল এলাকায় একটি জাতীয় সড়কের ফ্লাইওভারের ওপর দুর্ঘটনাটি ঘটে। বিপরীত দিক থেকে অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা একটি লরি প্রথমে একটি ছোট ভ্যানে ধাক্কা মারে এবং পরবর্তীতে সজোরে ধাক্কা মারে মন্ত্রী পত্নীর গাড়িটিকেও। এই আকস্মিক সংঘর্ষের ফলে মালতি দেবীর মাথা ও বাম হাতে মৃদু চোট লেগেছে এবং গাড়ির চালক মঙ্গল মুর্মুও হাতে আঘাত পেয়েছেন।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে চালক মঙ্গল মুর্মু জানান যে, সম্পূর্ণ বিপরীত দিক থেকে অত্যন্ত অনিয়ন্ত্রিত গতিতে একটি ট্রাক প্রথমে একটি ভ্যানকে পিষে দিয়ে সরাসরি তাঁদের গাড়ির ওপর আছড়ে পড়ে। তিনি অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে সঠিক সময়ে ব্রেক কষে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করায় একটি বড় বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, ঘটনার তীব্র আতঙ্ক কাটিয়ে মালতি টুডু জানান যে সামনে অন্য কোনো ভারী যানবাহন না থাকায় বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। তিনি বলেন, “লরিটা প্রথমে একটা ভ্যানে ধাক্কা মারে। তারপর আমাদের গাড়িটাকে সজোরে মারে। আমাদের সামনে সেসময় অন্য কোনো গাড়ি ছিল না। যদি সামনে কোনো গাড়ি থাকত, তাহলে তার সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কা লেগে পরিস্থিতি আরও অনেক বেশি ভয়াবহ হতে পারত। কিন্তু আমাদের ড্রাইভার কোনোমতে সামলে নেয়। আমার মাথায় ও বাম হাতে হালকা চোট লেগেছে। ইতিমধ্যেই বর্ধমান মেডিকেল কলেজে সিটি স্ক্যান করা হয়েছে, এখন রিপোর্টের অপেক্ষা করছি।”

দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় গলসি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় এবং তৎপরতার সঙ্গে মন্ত্রী পত্নী ও চালককে উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে মালতি দেবীর প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পন্ন হয় এবং সুরক্ষার খাতিরে তাঁর মাথার সিটি স্ক্যান ও হাতের এক্স-রে পরীক্ষা করানো হয়েছে। পাশাপাশি, গাড়ির আহত চালক মঙ্গল মুর্মুরও প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। বর্তমানে দুজনেই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে সুস্থ রয়েছেন।