হোটেলের বেঁচে যাওয়া খাবার এবার অভুক্তদের পেটে! মন্ত্রী অগ্নিমিত্রার মেগা পদক্ষেপে রাতারাতি বদলাতে চলেছে ফুটপাতের ছবি!

শহরের নামীদামি হোটেল এবং বিলাসবহুল রেস্তোরাঁগুলোর রাতে বেঁচে যাওয়া সুস্বাদু খাবার আর ডাস্টবিনে নষ্ট হবে না। এবার সেই খাবার সংগ্রহ করে কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণ করা হবে এবং পরের দিন সকালেই তা তুলে দেওয়া হবে শহরের অভুক্ত ভবঘুরে ও দুস্থ ভিক্ষুকদের হাতে। সাধারণ মানুষের মুখে অন্ন তুলে দিতে এবং শহরের ক্ষুধার্ত মুখগুলোর মুখে হাসি ফোটাতে এবার এক অনন্য ও যুগান্তকারী মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। ইতিমধ্যেই এই মহৎ প্রকল্পটিকে দ্রুত বাস্তবায়িত করার জন্য তিনি পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নামবলমকে কঠোর ও সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা জারি করেছেন।
সম্প্রতি পরিচ্ছন্নতা ও স্বচ্ছতা সম্পর্কিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসানসোল শহরের ঐতিহাসিক ও প্রাচীন মন্দির মা ঘাগরবুড়ি চত্বরে গিয়েছিলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে মন্দির চত্বরের চারপাশ প্লাস্টিকের বর্জ্যে ভরে থাকতে দেখে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি, মন্দির চত্বরে বহু মাধুকরী ও অসহায় মানুষকে মানুষের কাছে হাত পেতে খাবার চাইতে দেখে তাঁর সংবেদনশীল মন নড়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী অত্যন্ত কড়া সুরে ঘোষণা করেন যে, আগামী পয়লা সেপ্টেম্বরের পর থেকে আসানসোলের ঘাগরবুড়ি মন্দির চত্বরকে সম্পূর্ণ প্লাস্টিক-মুক্ত বা ‘প্লাস্টিক ফ্রি জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে। এই নিয়মের অন্যথা হলে কিংবা কেউ প্লাস্টিক ব্যবহার করলে তাঁকে মোটা অঙ্কের জরিমানা দিতে হবে।
শুধু প্লাস্টিকের ব্যবহার রোধেই নয়, শহরের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি শহরবাসীকে সতর্ক করে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, রাস্তার যেখানে-সেখানে নোংরা ফেললে, যত্রতত্র থুতু ফেললে কিংবা প্রকাশ্যে শৌচকর্ম করলে কঠোর জরিমানার কোণঠাসা হতে হবে। এখানেই শেষ নয়, পয়লা সেপ্টেম্বরের পর থেকে কেউ রাস্তায় নোংরা ফেললে তাঁকে কেবল আর্থিক জরিমানাই দিতে হবে না, সেই নিক্ষিপ্ত নোংরা ওই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দিয়েই নিজ হাতে পরিষ্কার করানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই অনমনীয় ও কঠোর শৃঙ্খলার বার্তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মন কেড়ে নিয়েছে তাঁর সমান্তরাল এক গভীর মানবিক ঘোষণা।
ঘাগরবুড়ি মন্দিরে প্রবেশের সময় রাস্তার দু’পাশে বসে থাকা শত শত দুস্থ ও ক্ষুধার্ত মানুষের অসহায় রূপ তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রকাশ্য মঞ্চেই জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন যে, আসানসোল শহরের সমস্ত হোটেল এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে বাধ্যতামূলকভাবে রাতের উদ্বৃত্ত খাবার সংরক্ষণ করতে হবে। কোল্ড স্টোরেজের সুব্যবস্থার মাধ্যমে সেই খাবার টাটকা রেখে পরের দিন সারে সকালে শহরের রাস্তায় থাকা অভুক্ত ভবঘুরে ও গরিব মানুষের মধ্যে সুষমভাবে বিতরণ করতে হবে। মন্ত্রীর এই জনহিতকর ঘোষণা শোনা মাত্রই উপস্থিত জনতা করতালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান এবং পুরো সভামঞ্চ সাধুবাদ ও প্রশংসায় ফেটে পড়ে।
ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শহরের বিশিষ্ট সমাজসেবী তথা ‘ফুডম্যান’ হিসেবে খ্যাত চন্দ্রশেখর কুন্ডু। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে আসানসোলে এই মহৎ কাজের পথপ্রদর্শক হিসেবে অতীতেও বহু কাজ হয়েছে এবং প্রশাসন চাইলে তাঁরাও সম্পূর্ণ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। তবে এই প্রকল্পের বাস্তবায়নে কিছু ব্যবহারিক দিক তুলে ধরে তিনি জানান যে, সাধারণ রেস্তোরাঁয় খাবার সাধারণত উদ্বৃত্ত হয় না, বরং সিআইএসএফ ব্যারাক, পুলিশ ব্যারাক কিংবা স্কুল-কলেজের ছাত্রাবাসের ক্যান্টিনের অতিরিক্ত খাবার এই প্রকল্পে দারুণ কাজে লাগতে পারে। কারণ সেখানে পুষ্টিকর খাবার বেশি পরিমাণে তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রীর এই স্বপ্নের প্রকল্প কতটা সফল হয় এবং কতশত অভুক্ত মানুষের পেট ভরে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় গোটা রাজ্য।